মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিকমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। তিনি বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে একটি প্রজন্মের ক্ষতি হচ্ছে।

স্থানীয় সময় সোমবার (২৪ আগস্ট) লাক্সন সরকারের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

তবে প্রস্তাবিত আইনটি এখনও পাস করার মতো পর্যাপ্ত সমর্থন পায়নি। লাক্সনের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের তিন দলের মধ্যে দুটি দল প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে আইনটি পাস করতে বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের সমর্থন প্রয়োজন হবে। তবে, বিরোধী দল এখনও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি।

এছাড়া আগামী নভেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে ১ অক্টোবর দেশটির পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষ হবে। এই সময়সীমার আগে প্রস্তাবটি নিয়ে ভোট দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময়ও তাদরে হাতে নেই বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লাক্সন। কারণ কোনো বিল আইনে পরিণত হতে সাধারণত কয়েক মাস ধরে তিন দফা ভোটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

অন্যান্য দেশের দিকে হাঁটতে চায় নিউজিল্যান্ডও

এরই মধ্যে বিশ্বের অনেক দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা নির্ধারণ করেছে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার। নিউজিল্যান্ডও এবার সেই পথে হাঁটতে চায়। আসন্ন নির্বাচনে পুননির্বাচিত হলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাই জানিয়েছেন লাক্সন।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিউজিল্যান্ডের এক-তৃতীয়াংশ কিশোর-কিশোরী প্রতিদিন অন্তত পাঁচ ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে।

লাক্সন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু-কিশোররা ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখে সময় কাটাচ্ছে। এটি শিশুদের মধ্যে এমনভাবে আসক্তি তৈরি করছে যা মোকাবিলা করার ক্ষমতা তাদের তৈরি হয়নি। এটি তাদের পারিবারিক জীবন, মানসিক স্বাস্থ্য, ঘুম ও শিক্ষায় প্রভাব ফেলছে।’

সোমবার নিউজিল্যান্ডের সরকার জানায়, প্রস্তাবিত আইনে ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর বয়স ১৬ বছরের বেশি কি না, তা যাচাইয়ে যৌক্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে। এ পদক্ষেপের আওতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্টগুলোর তথ্য, মুখ দেখে বয়স অনুমান, ডিজিটাল পরিচয়পত্রের সেবা ও সরকারি পরিচয়পত্র ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।

তবে প্রস্তাবিত আইনি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম, রোবলক্সের মতো অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম ও উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহৃত এআই অ্যাপ, যেমন: চ্যাটজিপিটি, জেমিনি ও কোপাইলট ইত্যাদি থাকবে না।

অপরদিকে, প্রস্তাবিত আইনে বাবা-মা বা শিশুদের জন্য কোনো শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।

লাক্সন বলেন, যেসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম শিশু-কিশোররা নিয়মিত ব্যবহার করে, সেসব প্ল্যাটফর্মকে তাদের নেটওয়ার্ক শিশুদের জন্য কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে, তা মূল্যায়ন ও প্রতিবেদন করতে হবে।

Opinion Column Subscription

Special Feature Articles

Video News Reports

নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব নিয়ে সরকারে বিভক্তি

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিশ্বে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

অস্ট্রেলিয়ায় আইনটি কার্যকর হওয়ার পর কানাডা, ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়াসহ কয়েকটি দেশও শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি দেশ এ ধরনের আইন নিয়ে পর্যালোচনা করছে বা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

এরপর থেকেই লাক্সনের সরকার নিউজিল্যান্ডে এ ধরনের আইন করার বিষয়টি বিবেচনা করে আসছে।

তবে লাক্সনের মধ্য-ডানপন্থি ন্যাশনাল পার্টির সঙ্গে জোটে থাকা অপর দুটি দল—স্বাধীনতাবাদী অ্যাক্ট ও জনতুষ্টিবাদী এনজেড ফার্স্ট এ প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।

সোমবারও এই দুই রাজনৈতিক দল তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে, তারা প্রস্তাবিত আইনের বিপক্ষে ভোট দেবে।

এদিকে, সোমবার লাক্সন সরকারের সবচেয়ে বড় বিরোধী দল মধ্য-বামপন্থি লেবার পার্টির নেতা ক্রিস হিপকিন্স জানিয়েছেন, তাদের আইনপ্রণেতারা প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেবেন কি না, সে বিষয়ে তারা এখনও সিদ্ধান্ত নেননি।

এদিকে, শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা কিছু সংগঠন ও অভিভাবকদের অনেকে লাক্সন সরকারের বয়সসীমা নির্ধারণের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।

অপরদিকে, গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো চাইলে সহজেই এসব নিয়মকানুন এড়িয়ে যতে পারবে। তবে ব্যবহারকারীদের পরিচয়পত্র দিতে বাধ্য করা হলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এদিকে, অস্ট্রেলিয়ায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার এক মাস পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো দেশটির একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানিয়েছিল, তারা শিশুদের মালিকানাধীন হিসেবে শনাক্ত প্রায় ৪৭ লাখ অ্যাকাউন্ট বাতিল করেছে।

শিশুদের ভবিষ্যত রক্ষায় লাক্সন সরকারের পদক্ষেপ অবশ্য এটাই নতুন নয়। ২০২৪ সালে সব বয়সী শিক্ষার্থীর জন্য স্কুল চলাকালীন মোবাইল ফোন ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল তারা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন