মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

তিন বছরের কম সময়ে ৩০ বছরের সমপরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে ইসরায়েল: প্রতিবেদন

তিন বছরেরও কম সময় ধরে চলা যুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী যে পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে, তা যুদ্ধের আগের প্রায় ৩০ বছরের ব্যবহারের সমপরিমাণ। দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান দেশটির গোলাবারুদের মজুতের পাশাপাশি সেনাসদস্য, সামরিক সরঞ্জাম ও অর্থনীতির ওপরও ব্যাপক চাপ তৈরি করেছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মারিভ-এর বরাতে সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু গোলাবারুদ নয়, ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কার্যক্রমও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে। গত তিন বছরের কম সময়ে বিমানবাহিনী যে পরিমাণ অপারেশন পরিচালনা করেছে, তা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রায় নয় বছরের কার্যক্রমের সমান বলে জানিয়েছে মারিভ

ট্যাংক-সাঁজোয়া যানের হাজারো ইঞ্জিন ক্ষয়

দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক ফ্রন্টে সামরিক অভিযান পরিচালনার প্রভাব পড়েছে ইসরায়েলের স্থলবাহিনীর সরঞ্জামেও। ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান পরিচালনায় হাজার হাজার ইঞ্জিন ব্যবহার বা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে মারিভ-এর মূল্যায়নে, ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম মেরামত কিংবা প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হলেও সেনাসদস্যদের ওপর দীর্ঘ যুদ্ধের যে প্রভাব পড়ছে, তা কাটিয়ে ওঠা তুলনামূলকভাবে অনেক কঠিন।

নিহত ১,১৩৮, শারীরিক-মানসিক সমস্যায় ১১ হাজারের বেশি

প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের বাদ দিয়ে শুধু সামরিক বাহিনীতেই ১ হাজার ১৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও ১১ হাজার ৭৩০ সেনাসদস্য শারীরিক অথবা মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। ভবিষ্যতে মানসিক আঘাত বা ট্রমায় আক্রান্ত আরও কয়েক হাজার সদস্য এ হিসাবের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।

দীর্ঘ যুদ্ধের চাপ পেশাদার সেনাসদস্যদের মধ্যেও দৃশ্যমান হচ্ছে। মারিভ-এর দাবি, কমান্ড পর্যায়ের দায়িত্বের প্রস্তাব পাওয়া উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সেনাসদস্য তুলনামূলক কম চাপের দায়িত্ব বেছে নিচ্ছেন; কেউ কেউ সামরিক চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পথেও হাঁটছেন।

প্রতিদিন সক্রিয় দায়িত্বে গড়ে ৫৩ হাজার রিজার্ভ সেনা

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৩ হাজার রিজার্ভ সেনাকে সক্রিয় দায়িত্বে রাখছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এর আর্থিক ব্যয়ও ব্যাপক। গত বছর এক মাস রিজার্ভ সেনাদের দায়িত্বে রাখতেই প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন শেকেল বা প্রায় ৭০৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে। মারিভ-এর হিসাবে, এই অর্থ দিয়ে প্রায় সাতটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান অথবা ৭০টি মেরকাভা ট্যাংক কেনার সমপরিমাণ ব্যয় মেটানো সম্ভব।

একাধিক ফ্রন্টে সেনা মোতায়েনে বাড়ছে চাপ

ইসরায়েলি বাহিনী বর্তমানে গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় তিনটি ‘নিরাপত্তা বলয়’ হিসেবে বর্ণিত এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। এর পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সেনা নিয়োজিত রয়েছে। মারিভ-এর মতে, পশ্চিম তীরেই সামরিক জনবলের সবচেয়ে বড় অংশ ব্যবহৃত হচ্ছে।

প্রতিবেদনটিতে এত বড় পরিসরে দীর্ঘমেয়াদি সেনা মোতায়েন কতটা টেকসই, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে জনবল ও অর্থ—উভয় ক্ষেত্রেই সামরিক বাহিনীর ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

মার্কিন সামরিক সহায়তার ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ

প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ইসরায়েলের সামরিক সহায়তার ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। বর্তমানে কার্যকর সহায়তা চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা। গত এক দশকে এর আওতায় প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা পেয়েছে ইসরায়েল বলে মারিভ জানিয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ফলে গোলাবারুদ, সামরিক সরঞ্জাম, রিজার্ভ সেনা ও অর্থনৈতিক ব্যয়ের যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে মোতায়েনের পরিধি কমাতে হতে পারে বলে মূল্যায়ন করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমটি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন