অনুসরণ করুন:
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

সার্ভেয়ার-কানুনগোদের ঘন ঘন বদলি নিরুৎসাহিত করতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা

ভূমি প্রশাসনে সেবার ধারাবাহিকতা ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সার্ভেয়ার ও কানুনগোদের ঘন ঘন বদলি বা পদায়ন নিরুৎসাহিত করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। বিশেষ প্রশাসনিক প্রয়োজন ছাড়া এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কমপক্ষে দুই বছর একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-১ শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, মাঠ প্রশাসনের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সার্ভেয়ার ও কানুনগো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ভূমি জরিপ, রেকর্ড সংরক্ষণ, নামজারি কার্যক্রম, ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে তাঁদের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। তাই এসব পদে কর্মরতদের ঘন ঘন বদলি হলে মাঠপর্যায়ের সেবা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সার্ভেয়ার ও কানুনগোদের বারবার বদলি বা পদায়নের কারণে বিভিন্ন এলাকায় ভূমিসেবা কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ সময়মতো প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতেও বিলম্ব হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে বিশেষ প্রশাসনিক প্রয়োজন ব্যতীত সার্ভেয়ার ও কানুনগোদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অন্যত্র বদলি বা পদায়ন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের কমপক্ষে দুই বছর একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, যাতে মাঠপর্যায়ে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সেবার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান স্বাক্ষরিত এ আদেশ ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান, দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং নির্দেশনাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগতভাবে বদলির জন্য তদবির করা সরকারি চাকরির বিধিবিধানের পরিপন্থী। তাই এ ধরনের অনৈতিক তদবির থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নতুন এই নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে মাঠপর্যায়ের ভূমি প্রশাসনে স্থিতিশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে ভূমিসংক্রান্ত সেবার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন