অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

টানা তিন কার্যদিবস পতনে ডিএসইএক্স, কমেছে লেনদেনও

দেশের শেয়ারবাজারে টানা তিন কার্যদিবস ধরে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এ সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স প্রায় ১১৫ পয়েন্ট হারিয়েছে। একই সঙ্গে বাজারে লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাজার তথ্য অনুযায়ী, প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইএক্স ২৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৭১ পয়েন্টে নামে। পরদিন সূচক আরও ৬৭ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ৮০৪ পয়েন্টে নেমে আসে। সর্বশেষ কার্যদিবসে সূচক প্রায় ২০ পয়েন্ট কমে অবস্থান নেয় ৫ হাজার ৭৮৪ পয়েন্টে। একই সময়ে ডিএস-৩০ এবং শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচকেও ধারাবাহিক পতন লক্ষ্য করা গেছে।

সর্বশেষ কার্যদিবসে বাজারের শুরুতে সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই বিক্রির চাপ বাড়তে শুরু করে। মাঝে ক্রেতাদের অংশগ্রহণে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থায়ী হয়নি এবং দিনশেষে সূচক নেতিবাচক অবস্থানেই লেনদেন শেষ করে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সিটি ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, প্রাইম ব্যাংক, লাফার্জহোলসিম ও বিএসআরএমের শেয়ারের দরপতন সূচক কমার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

ডিএসইতে এদিন মোট ৭৮১ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ৯৩৯ কোটি টাকা থেকে কম। লেনদেন হওয়া ৩৮৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১১৬টির, কমেছে ২৪০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৩টির।

খাতভিত্তিক লেনদেনে বস্ত্র খাত মোট লেনদেনের প্রায় ১৯ দশমিক ২ শতাংশ নিয়ে শীর্ষে ছিল। এরপর সাধারণ বীমা, ওষুধ ও রসায়ন, ব্যাংক এবং প্রকৌশল খাত সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া খাতের তালিকায় স্থান পায়।

রিটার্নের দিক থেকে দিনটি ছিল বেশিরভাগ খাতের জন্য নেতিবাচক। মিউচুয়াল ফান্ড, সিরামিক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সিমেন্ট খাতে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ বীমা, সেবা ও আবাসন এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ধরনের চিত্র দেখা যায়। নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স ৯২ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৪৪৫ পয়েন্টে এবং সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৪২ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৪৭৮ পয়েন্টে নেমে আসে। সিএসইতে ২১৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৫৭টির দর বেড়েছে, ১৩৪টির কমেছে এবং ২৮টির দর অপরিবর্তিত ছিল। একই দিনে এক্সচেঞ্জটিতে মোট ৫ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ২০ কোটি টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন