অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

পরকীয়ার জেরে নারী হত্যা: দুই সপ্তাহে সীমান্ত এলাকা থেকে প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ঢাকা, ২১ জুলাই: সাভারে এক নারীকে হত্যার ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মো. মাসুম ইসলামকে কুড়িগ্রামের সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পিবিআই জানায়, গত ২ জুলাই সাভার থানার বড়দেশী এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে ৩৯ বছর বয়সী শারমিন আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। গত ৮ জুলাই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই ঢাকা জেলা।

তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে মো. মাসুম ইসলামের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গত ১৪ জুলাই কুড়িগ্রামের সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআইর প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামি প্রজাপতি পরিবহনের লাইনম্যান হিসেবে কাজ করতেন এবং সাভারের কাতলাপুর এলাকায় তার বাবার চায়ের দোকানেও সহযোগিতা করতেন। ওই দোকানের পেছনের একটি বাসায় থাকতেন নিহত শারমিন আক্তার। সেখান থেকেই তাদের পরিচয় এবং পরে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগের রাতে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। পরদিন আসামি ভুক্তভোগীর বাসায় যান। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হলে শারমিন আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে পিবিআই জানিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে, যা পরীক্ষার আওতায় রয়েছে।

পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম.এন. মোর্শেদ বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই ক্রাইম সিন টিম তদন্ত শুরু করে এবং মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রধান আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত ও প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধ উদ্ঘাটনে পিবিআই কাজ করে যাচ্ছে।

পিবিআই আরও জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন