৪০টি টিমের অভিযানে ৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকা জরিমানা | নিত্যপণ্যের মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি তদারকির পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতে অনিয়ম যাচাই
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা, স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিতে দেশব্যাপী বিশেষ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
ঢাকা মহানগরসহ দেশের ৩০টি জেলায় অধিদপ্তরের পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৯১টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আজ অধিদপ্তরের ৪০টি টিম একযোগে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালনা করে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
নিত্যপণ্যের বাজারে মূল্য ও সরবরাহ তদারকি
অধিদপ্তর জানিয়েছে, ফল, চাল, ডাল ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা, গ্যাস সিলিন্ডারের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্য গ্রহণ ঠেকাতে এ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও প্রদান, ওজন ও পরিমাপে কারচুপি রোধ, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও ওষুধ বিক্রি প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হয়।
এ ছাড়া গ্যাস সিলিন্ডারের মজুত পরিস্থিতি, নিরাপত্তাবিধি প্রতিপালন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। তদারকির সময় ফলের ক্রয় ভাউচার ও বিক্রয় রসিদও পরীক্ষা করা হয়।
ভোজ্যতেলের সরবরাহ ও বোতলজাত পণ্যের খোঁজ
ভোজ্যতেলের বাজারে পরিচালিত বিশেষ তদারকিতে সরবরাহে কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না এবং ১ ও ২ লিটারের বোতলজাত ভোজ্যতেল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে কি না, সে বিষয়ও খতিয়ে দেখা হয়।
অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মজুত এবং সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন, সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করা এবং সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে।
ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচার
অভিযানে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে লিফলেট ও প্যাম্ফলেট বিতরণ এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প ও বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা বাজার তদারকি কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।
পণ্য কেনার আগে মূল্য ও মেয়াদ যাচাইয়ের পরামর্শ
ভোক্তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কিনে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর।
পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করার পাশাপাশি সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করে পণ্য কেনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া পণ্য কেনার সময় বিক্রেতার কাছ থেকে ভাউচার সংগ্রহ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
পণ্য ক্রয়ে কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার সম্মুখীন হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানানোর জন্য ভোক্তাদের অনুরোধ করা হয়েছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে শৃঙ্খলা, ন্যায্যমূল্য, পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

