পাহাড়ে তল্লাশি চালিয়ে গুলি, খালি খোসা, এনআইডি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স উদ্ধার করা হয়েছে। গুঁড়িয়ে ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে মানবপাচারকারীদের একাধিক আস্তানা ও বন্দিশালা।
কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানার সন্ধানে পাহাড়ে অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। অভিযানে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাস্থল থেকে গুলি, গুলির খালি খোসা, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ড্রাইভিং লাইসেন্স উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-ব্লক সংলগ্ন পাহাড়ে এ অভিযান চালানো হয়।
৩৫ সদস্যের যৌথবাহিনীর অভিযান
সেনাবাহিনী, এপিবিএন ও এসআরবির সমন্বয়ে ৩৫ সদস্যের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মানবপাচারকারীদের একাধিক আস্তানা ও বন্দিশালা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
হ্নীলা রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মাহবুবের নেতৃত্বে অভিযানে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৬৪ ব্যাটালিয়ন, এসআরবি-১৫ সদস্য, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন অংশ নেন।
অভিযান চলাকালে যৌথবাহিনীর সদস্যরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৪ এর আইওএম হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেন। পাশাপাশি ড্রোনের সাহায্যে পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি ও নজরদারি চালানো হয়।
পশ্চিম পাহাড়েও অভিযান
অন্যদিকে, একই দিন নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পশ্চিম পাশে সেনাবাহিনী, এপিবিএন ও এসআরবির সমন্বয়ে ৩৫ সদস্যের আরেকটি দল অভিযান পরিচালনা করে।
এ অভিযানেও ডাকাত দলের কোনো সন্দেহভাজন সদস্যকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পরে মানবপাচারকারীদের ব্যবহৃত আস্তানা থেকে ছয় রাউন্ড গুলি, গুলির খালি খোসা, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং রান্নাবান্নার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে মানবপাচারকারীদের একাধিক আস্তানা ও বন্দিশালা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
প্রয়োজনে আবারও অভিযান
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শনিবার সকালে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পসংলগ্ন পশ্চিম পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের আস্তানার সন্ধানে যৌথবাহিনী অভিযান চালায়।
অভিযানে কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি এবং কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, আপাতত অভিযান শেষ করা হলেও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে আবারও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
আগের অভিযানে সেনাসদস্য নিহত, উদ্ধার ৫৬ জিম্মি
গত ৫ নভেম্বর বিকেলে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে সেনাবাহিনীর এক সদস্য নিহত হন।
ওই ঘটনায় যৌথবাহিনী ৫৬ জন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি জিম্মিকে উদ্ধার করে। একই সঙ্গে মানবপাচারকারী চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও চার রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়েছিল।

