অনুসরণ করুন:
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

তাহসিফ হত্যায় দীপ-দিশার সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ পুলিশের

সিসিটিভি ও মোবাইল ফোনের তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহ, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার আবেদন

বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি ‘কোনো না কোনোভাবে’ জড়িত বলে মনে করছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল ফোন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

শনিবার (৭ নভেম্বর) আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে কারাগারে আটক রাখার আবেদনে এ কথা লিখেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, আসামিপক্ষ থেকে জামিন আবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুরের টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম জামিন আবেদন নাকচ করে দীপকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সিসিটিভি ও মোবাইল ফোনের তথ্য

কারাগারে আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, মামলার ঘটনাটি স্পর্শকাতর ও চাঞ্চল্যকর। তাহসিফ সাউরি ঘটনার আগে দীপ ও দিশার সঙ্গে ঘোরাফেরা করেছেন এবং বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়েছেন।

সিসিটিভি ভিডিও ও মোবাইল ফোন থেকে পাওয়া তথ্যের আলোকে আবেদনে বলা হয়, ‘সাউরিকে মৃত্যুর আগে শেষবারের মতো দিশা ও দীপের সঙ্গে দেখা হয়েছে।’

আবেদনে আরও বলা হয়, ‘এ অবস্থায় আসামিরা কোনো না কোনোভাবে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে মর্মে তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে দীপকে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।’

তদন্ত কর্মকর্তা মামলার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন।

তুরাগে উদ্ধার হয় তাহসিফের লাশ

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে আলোচনায় থাকা তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌপুলিশ।

তাহসিফ ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় ‘দীপের ডাকে’ বাসার নিচে নামেন এবং নিজের বাইক নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান।

দীপ ২৯ অক্টোবর বলেছিলেন, রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকা থেকে তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান।

তিন দিনেও মামলা না হওয়ায় তাকে নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, সেই আলোচনার মধ্যে ৩০ অক্টোবর রাতে দীপকে নৌপুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ওই দিন রাতে তাহসিফের বাবা মামলা করার পর দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন তাকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন আদালত। মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফায় তিন দিন এবং বৃহস্পতিবার আরও তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ হয়।

দীপের তথ্যেই উদ্ধার হয় তাহসিফের বাইক

দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের বাইক উদ্ধার করা হয়।

‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন দীপ। একপর্যায়ে তাকে নিয়ে শুক্রবার টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শনেও যান পিবিআই কর্মকর্তারা।

দিশাও কারাগারে

এ মামলায় গত ৩১ অক্টোবর রাত ২টার দিকে কাফরুল এলাকা থেকে জেরিকা তাসনিম দিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন আদালত তাকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। এরপর গত ৪ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ আসে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন