রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

আবরার হত্যা মামলায় মোর্শেদের মৃত্যুদণ্ড পুনর্বিবেচনার দাবি

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলামের সাজা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে দুই মানবাধিকার সংগঠন। তাদের দাবি, আবরারকে মারধরের ঘটনায় মোর্শেদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ নেই। তাই আপিল শুনানিতে সাক্ষ্যপ্রমাণ, ব্যক্তিগত অপরাধের দায়, বয়স ও সাজা কমানোর প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সংগঠন দুটি হলো ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অ্যাগেইনস্ট টর্চার (ওএমসিটি) এবং অল ভিকটিমস অ্যান্ড ভেটেরান্স নেটওয়ার্ক (এভিএন)। বুধবার (৫ নভেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ আহ্বান জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ২৪ নভেম্বর আপিল বিভাগে মোর্শেদের মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। শুনানিতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার চাপ থেকে মুক্ত থেকে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ পর্যালোচনা নিশ্চিত করতে হবে।

মোর্শেদের সাজা পুনর্বিবেচনার আহ্বান কেন

আবরার হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় হলেও শুধু মোর্শেদের সাজা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে কেন—এমন প্রশ্নে এভিএনের নির্বাহী পরিচালক মুশফিকুর রহমান জোহান বলেন, মোর্শেদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মামলার নথিপত্র পর্যালোচনার সুযোগ পেয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে পরিবারের লিখিত সম্মতিও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

জোহান বলেন, অন্য আসামিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের মামলার নথিপত্র ও আপিলের যুক্তি পেতে দেরি হয়েছে। তাই আপাতত মোর্শেদের মামলাটি নিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কয়েকটি পরিবারের কাছ থেকে নথিপত্র পাওয়া গেছে। সেগুলো পর্যালোচনা করে অন্য আসামিদের বিষয়েও বিবৃতি দেওয়া হবে।

মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা দুই সংগঠনের

যৌথ বিবৃতিতে আবরার হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে সংগঠন দুটি বলেছে, তার পরিবারের সত্য জানা, ন্যায়বিচার ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হওয়ার অধিকার রয়েছে।

তবে শাস্তির কঠোরতা কিংবা জনরোষ প্রশমনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পরিমাপ করা যায় না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সব পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে সংগঠন দুটি জানায়, এই শাস্তি অপরিবর্তনীয় এবং মানবিক মর্যাদার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।

এভিএনের নির্বাহী পরিচালক মুশফিকুর রহমান জোহান বলেন, “আমরা সব ধরনের মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে। ন্যায়বিচার ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করাটা খুব জরুরি। আমাদের চাওয়া তো বেশি কিছু নয়, ন্যায়বিচার।”

আবরার হত্যা মামলার রায় ও আপিল

২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরে বাংলা হলে পিটিয়ে হত্যা করা হয় শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ।

৩৭ দিনে তদন্ত শেষ করে ১৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর মামলার রায় হয়। রায়ে ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি আবরার হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাই কোর্টে আসে। অন্যদিকে আসামিরাও রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পেপারবুক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে শুনানি শুরু করে রাষ্ট্রপক্ষ। গত বছর ১৬ মার্চ রায় ঘোষণা করে হাই কোর্ট। রায়ে ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা ২০ আসামির সবাই বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলামও রয়েছেন।

ওএমসিটি ও এভিএনের পরিচিতি

ওএমসিটি সুইজারল্যান্ডভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন। সংগঠনটি বিশ্বের প্রায় ২০০ দেশে কাজ করে।

অন্যদিকে এভিএন বাংলাদেশভিত্তিক সংগঠন। তাদের স্লোগান ‘রাষ্ট্রীয় সহিংসতার জনগণের দলিল’। ওয়েবসাইটে নিজেদের রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচয় দিয়েছে সংগঠনটি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন