পটুয়াখালীর বাউফলে ফুটবল মাঠে প্রথমবারের মতো নারী সহকারী রেফারির দায়িত্ব পালনের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ধানদী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় দুই নারী সহকারী রেফারির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের ব্যতিক্রমী উপস্থিতি স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে সৃষ্টি করেছে নতুন আলোচনার।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং বরিশাল থেকে আগত তনরা রিয়া ও সাফা মারিয়া নামে দুই নারী সহকারী রেফারি মাঠের দায়িত্ব পালন করেন। বাউফলের ফুটবল মাঠে নারীদের এমন অংশগ্রহণকে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে ইতিবাচক ও ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।
খেলাটির আয়োজন করেন নাজিরপুর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী মাসুম বিল্লাহ পলাশ।
খেলা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক আবুল বশার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারেক, ধানদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবুবকর সিদ্দিকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ক্রীড়াপ্রেমীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আপেল মাহমুদ ফিরোজ বলেন, “খেলাধুলা যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফুটবল শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের শিক্ষা দেয়। বাউফলের ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের অংশগ্রহণ এবং নারী রেফারির দায়িত্ব পালন নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখতে হবে।”
আয়োজক হাজী মাসুম বিল্লাহ পলাশ বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য হলো এলাকার তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা। ফুটবল মাঠে নারী রেফারির দায়িত্ব পালন আমাদের জন্য আনন্দের ও গর্বের বিষয়। নারীরাও যে যোগ্যতা ও দক্ষতার সঙ্গে খেলাধুলার বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে পারেন, এটি তারই প্রমাণ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ব্যতিক্রমী ও জনকল্যাণমূলক আয়োজন অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।”
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা জানান, ফুটবল মাঠে নারী সহকারী রেফারির দায়িত্ব পালন নারীদের ক্রীড়াক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জোগাবে। তাঁদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে বাউফলের ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।

