অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

কড়াইল বস্তিতে অগ্নিনিরাপত্তা মহড়া, আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজে প্রশিক্ষণ পেলেন বাসিন্দারা

অগ্নিকাণ্ডের কৃত্রিম পরিস্থিতি তৈরি করে উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসার কার্যক্রম প্রদর্শন, শেখানো হলো গ্যাস সিলিন্ডারের আগুন নিয়ন্ত্রণের কৌশল

রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি মোকাবিলা, জরুরি উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ মহড়া চালিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৮টায় বস্তির এরশাদ মাঠে এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকেরা অংশ নেন।

অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে দ্রুত সাড়া দিতে হবে, আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রাথমিকভাবে কী পদক্ষেপ নিতে হবে এবং বিপদে পড়া ব্যক্তিদের কীভাবে নিরাপদে উদ্ধার করতে হবে—মহড়ায় এসব বিষয় হাতে-কলমে দেখানো হয়। পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের ব্যবহার, আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং গুরুতর আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়াও তুলে ধরা হয়।

কৃত্রিম অগ্নিকাণ্ডের পরিস্থিতিতে উদ্ধার অভিযান

মহড়ার শুরুতে বস্তির স্বাভাবিক জীবনযাত্রার চিত্র প্রদর্শনের পর আকস্মিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের একটি কৃত্রিম পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর তেজগাঁও ও কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম শুরু করে।

একই সঙ্গে আগুনে আটকে পড়া ও আহত ব্যক্তিদের উদ্ধারের পাশাপাশি তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। গুরুতর আহত ব্যক্তিদের ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়াও মহড়ায় প্রদর্শন করা হয়।

জরুরি সাড়াদান কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য ঘটনাস্থলে একটি কমান্ড পোস্ট স্থাপন করা হয়। সেখান থেকে পরিস্থিতি মূল্যায়ন, উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, অগ্নিনির্বাপণ কৌশল প্রয়োগ এবং বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে পুরো অভিযান পরিচালনার চিত্র তুলে ধরা হয়।

গ্যাস সিলিন্ডারের আগুন নিয়ন্ত্রণের কৌশল শেখানো

মহড়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরাসরি প্রশিক্ষণে যুক্ত করা হয়। তাঁদের অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের সঠিক ব্যবহার, আগুন লাগলে প্রাথমিক করণীয় এবং এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডারে আগুন লাগলে তা নিরাপদে নিয়ন্ত্রণের ব্যবহারিক কৌশল শেখানো হয়।

এ ছাড়া স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের জরুরি পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন, দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীদের সহযোগিতা করার বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, গ্যাস সিলিন্ডারের অসতর্ক ব্যবহার ও রান্নার চুলা থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এ বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়।

বস্তিতে সচেতনতামূলক প্রচার, দেওয়া হলো হটলাইন নম্বর

মহড়া শেষে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বস্তির বিভিন্ন এলাকা ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়।

আগুনসহ যেকোনো দুর্ঘটনায় দ্রুত সহায়তা পেতে ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন নম্বর ১০২-এ যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বস্তির বিভিন্ন স্থাপনায় ১০২ নম্বরসংবলিত স্টিকার লাগানো এবং বাসিন্দাদের মধ্যে তা বিতরণ করা হয়। জরুরি প্রয়োজনে যাতে সহজেই নম্বরটি খুঁজে পাওয়া যায়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

নেতৃত্বে ছিলেন ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক

মহড়ায় নেতৃত্ব দেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন, বিএফএম (বার)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকার সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান, জোন কমান্ডার মো. তানহারুল ইসলাম, ফয়সলুর রহমান ও মো. আব্দুল মান্নানসহ সংস্থাটির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁদের মতে, শীত ও শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বিবেচনায় কড়াইল বস্তিতে এ ধরনের মহড়া বাসিন্দাদের মধ্যে আগুন প্রতিরোধ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

ফায়ার সার্ভিসের এ উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম প্রদর্শন নয়, বরং স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত করে তোলা। জনসাধারণের অংশগ্রহণ ও সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে নিরাপদ ও দুর্যোগসহনশীল নগর গড়ে তুলতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন