নির্ধারিত নকশায় ই-রিকশা তৈরি ও বুয়েটের ছাড়পত্র নেওয়ার পর মিলবে নিবন্ধনের সুযোগ; চলাচল নিয়ন্ত্রণে ডিএসসিসি এলাকাকে চার জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব রিকশাকে পর্যায়ক্রমে নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে আবেদন ফরম বিতরণ শুরু করেছে সংস্থাটি। তবে ফরম সংগ্রহ করলেই সড়কে রিকশা চালানোর অনুমতি পাওয়া যাবে না। নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী ই-রিকশা তৈরি এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাড়পত্র নেওয়ার পর নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় ডিএসসিসির পরিকল্পনা তুলে ধরেন সংস্থাটির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
নিবন্ধনের আগে বুয়েটের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক
ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘আজ থেকে ই-রিকশার নিবন্ধন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই ফরম কোনো চলাচলের অনুমতিপত্র নয়। এটি কেবল নিবন্ধনের আবেদনপত্র। আবেদনকারীদের অবশ্যই নির্ধারিত শর্ত পূরণ ও বুয়েটের ছাড়পত্র নিয়ে আবেদন জমা দিতে হবে।’
তিনি জানান, প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে পর্যায়ক্রমে ই-রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হবে। অর্থাৎ আবেদন ফরম সংগ্রহ করলেই কোনো রিকশা সড়কে চলাচলের বৈধ অনুমতি পাবে না।
চার জোনে ভাগ হবে ডিএসসিসি এলাকা
ই-রিকশার সংখ্যা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকাকে চারটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আগামী ৫ নভেম্বর সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ পুলিশের যৌথ সভায় জোনগুলোর সীমানা এবং অঞ্চলভিত্তিক ই-রিকশার সম্ভাব্য সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে বলে জানান প্রশাসক।
নির্দিষ্ট ওয়ার্কশপ ও চার্জিং স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ
ই-রিকশা ব্যবস্থাপনাকে নিয়মের আওতায় আনতে নির্ধারিত মডেলের ই-রিকশা তৈরি ও মেরামতের জন্য নির্দিষ্ট ওয়ার্কশপ ঠিক করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ডিএসসিসির।
পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে ই-রিকশা চার্জ দেওয়া বন্ধ করতে ওয়ার্ড বা থানা পর্যায়ে নির্দিষ্ট চার্জিং স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ই-রিকশার উৎপাদন, মেরামত ও চার্জিং কার্যক্রমকে নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।
ধাপে ধাপে নিবন্ধনের আওতায় আসবে ই-রিকশা
একসঙ্গে সব ই-রিকশা বন্ধ না করে পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন ডিএসসিসির প্রশাসক।
আবদুস সালাম বলেন, ‘সবকিছু হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ার চেয়ে আমরা ধাপে ধাপে এগুলোকে নিয়ম ও নিবন্ধনের আওতায় আনতে চাই। প্রথম পর্যায়ে ১ হাজার, ২ হাজার কিংবা ৫০০—যে কয়টি ই-রিকশা শর্ত পূরণ করবে, সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের অনুমোদন দেওয়া হবে।’
ফরম সংগ্রহের নিয়ম ও ফি
ডিএসসিসির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর থেকে প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যে নিবন্ধনের আবেদন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নগর ভবন ও ডিএসসিসির সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ফরম সংগ্রহ করা যাবে।
একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচটি ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে ফরম সংগ্রহের পর নির্ধারিত শর্ত পূরণ এবং বুয়েটের ছাড়পত্রসহ আবেদন জমা দিতে হবে।
নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়েছে ডিএসসিসি
ই-রিকশাকে ঢাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নগরবাসী, রিকশার মালিক ও চালক এবং গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চেয়েছেন ডিএসসিসির প্রশাসক।

