মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা

ডিজিটাল পেমেন্ট, টেলিযোগাযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ই-কমার্স ও ডিজিটাল অর্থনীতিসহ প্রযুক্তির বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর। এ লক্ষ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগানো এবং যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লোক। এ সময় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর জনসেবা সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সরকার। এসব ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতে পারে।

তিনি জানান, দেশের বিস্তৃত ডাকঘর নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের মাধ্যমে ই-কমার্স, পার্সেল ডেলিভারি ও সমন্বিত লজিস্টিকস সেবার কার্যকর কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দুই দেশের যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

সরকারি সেবায় ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়ানো, রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নাগরিক সেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি কার্যক্রমের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে পারে।

সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার ডেরেক লোকও বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ জানান। তিনি বাংলাদেশের ডাক বিভাগের অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে ই-কমার্স, পার্সেল ডেলিভারি ও লজিস্টিকস সেবার উন্নয়নের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি সরকারি সেবায় ডিজিটাল পেমেন্ট চালু ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং জনসেবার দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা, বায়োমেডিক্যাল প্রযুক্তি এবং সরকারি সেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়। হাইকমিশনার বলেন, এআইনির্ভর পরিবর্তনশীল বিশ্বে তরুণ জনগোষ্ঠীকে ভবিষ্যতের কর্মবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রযুক্তিগত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ে সিঙ্গাপুর আগ্রহী।

সাক্ষাতে উভয় পক্ষ ডিজিটাল অর্থনীতি, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জনসেবার আধুনিকায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনার বিষয়ে একমত হন। এসব খাতে বাস্তবভিত্তিক যৌথ উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ ওং, ডেস্ক অফিসার ম্রিথিনি টিজিট্রিথারান এবং এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ডেভেলপমেন্ট পার্টনার বেঞ্জামিন চু উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন