সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ব্যবসা করেছে, এখন জুলাই চেতনা নিয়ে রাজনীতি করছে আরেক দল: ধর্মমন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। একই সঙ্গে বর্তমানে অন্য একটি রাজনৈতিক দল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে পুঁজি করে একই ধরনের রাজনীতি করছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ব্যবসা করেছে। এখন আরেকটি দল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ব্যবহার করে একই কাজ করছে। তবে বিএনপি কোনো চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না। মুক্তিযোদ্ধা এবং জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই দলের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার অবদানকে যথাযথভাবে মূল্যায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান

অনুষ্ঠানে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ধর্মমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জীবন, সম্পদ ও সম্মান রক্ষা করা সবার নৈতিক দায়িত্ব। সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কায়কোবাদ বলেন, নির্বাচনের সময় তাঁরা যেমন সহযোগিতা করেছেন, তেমনি তাঁর কারাবাসের সময় মুক্তির দাবিতেও মানববন্ধন করেছেন। তাঁদের সেই সহযোগিতা তিনি সব সময় স্মরণ রাখবেন।

মুক্তিযোদ্ধা ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ১০ লাখ টাকা অনুদান

অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অর্থায়নে গঠিত কল্যাণ তহবিল থেকে মোট ১০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

এর মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে পাঁচ লাখ এবং অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়।

বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা অর্জনে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ হলে এমপিও বন্ধের সুপারিশ

মুরাদনগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সাম্প্রতিক পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ধর্মমন্ত্রী।

তিনি বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল ধারাবাহিকভাবে দুই বা তিনবার খারাপ হবে, সেসব প্রতিষ্ঠানের এমপিও সুবিধা বন্ধের সুপারিশ করা হবে।

শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হবে। অভিভাবকেরা সন্তানদের ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠান। সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন পরীক্ষার ফলাফলে থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা

ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

এ সময় তিনি সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রবাসী কার্ড এবং খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনায় সবার কাছে দোয়া চান।

মুরাদনগরের উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনার কথা জানালেন

মুরাদনগরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় উপজেলায় বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও নিজ নির্বাচনী এলাকায় আসার কথা জানিয়ে কায়কোবাদ বলেন, হিপ রিপ্লেসমেন্ট ও চোখের অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকের বিশ্রামের পরামর্শ থাকলেও এলাকার মানুষের প্রতি ভালোবাসা থেকে তিনি মুরাদনগরে এসেছেন।

তাঁকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করায় স্থানীয় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আজীবন তাঁদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৃক্ষরোপণে সফল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার

অনুষ্ঠানে মুরাদনগর উপজেলায় এক লাখের বেশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীকে সাত হাজার এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারীকে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, পুরস্কারের অর্থমূল্যের চেয়ে পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিদ্যালয়ে অনুদান

এর আগে দিনের শুরুতে মুরাদনগরের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘প্রতিভা স্কুল’-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে অংশ নেন ধর্মমন্ত্রী।

এ সময় তিনি শিশুদের সঙ্গে কেক কাটেন এবং তাদের উৎসাহ দিতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

বিদ্যালয়টির কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে নিজস্ব তহবিল থেকে এক লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, সনাতন ধর্মাবলম্বী, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন