ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ২০ হাজার ডাকযোগে আসা ব্যালট বাতিলের আবেদন, আলাস্কার সিনেট নির্বাচন নিয়েও তদন্ত; পদক্ষেপগুলো নিয়ে উঠেছে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার প্রশ্ন।
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ক্যালিফোর্নিয়ায় ডাকযোগে আসা প্রায় ২০ হাজার ব্যালট বাতিলের আবেদন এবং আলাস্কার সিনেট নির্বাচন নিয়ে ফৌজদারি তদন্ত জোরদার করার ঘটনায় বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, নির্বাচনের ফল গণনা ও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন করার আগেই এ ধরনের আইনি তৎপরতা ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ বাড়াতে পারে। তবে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চের দাবি, বিচার বিভাগের পদক্ষেপগুলো আইনসম্মত এবং ভোটের স্বচ্ছতা ও মর্যাদা রক্ষার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০ হাজার ব্যালট বাতিলের আবেদন
ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ (ডিওজে) ক্যালিফোর্নিয়ায় ডাকযোগে আসা প্রায় ২০ হাজার ব্যালট বাতিলের আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ভোটাররা মার্কিন নাগরিক নন—এমন দাবি তুলে তাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
একই সঙ্গে একটি ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে রাজ্যটির কাছে বিভিন্ন নথিপত্র চেয়েছে বিচার বিভাগ।
তবে ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটিক প্রশাসন জানিয়েছে, অমার্কিন নাগরিকদের ভোটদান ঠেকাতে রাজ্যে কঠোর ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের ব্যালট বা ভোট এভাবে বাতিল করার আইনি কর্তৃত্ব বিচার বিভাগের নেই বলেও দাবি করেছে রাজ্য প্রশাসন।
আলাস্কার সিনেট নির্বাচন নিয়ে তদন্ত
আলাস্কায় সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের সঙ্গে একই নামের আরেক প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামিয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছে। ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগকে ‘ব্যালট স্ট্যাকিং’ বা পরিকল্পিতভাবে ভোটপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার ষড়যন্ত্র হিসেবে তুলে ধরে তদন্ত জোরদার করেছে বিচার বিভাগ।
এদিকে, সুলিভান অল্প ব্যবধানে হেরে গেলে ট্রাম্পের নির্দেশে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যয়ন প্রক্রিয়া ঠেকাতে আইনি নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ফেডারেল আদালতে মামলা করা হয়েছিল।
তবে বিচারক শ্যারন গ্লিসন রোববার মামলাটি খারিজ করে দেন। বিচার বিভাগ ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
ক্যালিফোর্নিয়া ও আলাস্কায় বিচার বিভাগের প্রাথমিক আইনি পদক্ষেপগুলো আদালতে খারিজ হওয়ার পরও নির্বাচনের ফল গণনা ও আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়নের আগে এ ধরনের তৎপরতা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বিষয়ে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। তাঁদের আশঙ্কা, এ ধরনের পদক্ষেপ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সন্দেহ ও অবিশ্বাস বাড়াতে পারে।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে না; বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনসহ স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক সমীকরণেও এর প্রভাব পড়বে।
২০২০ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা
২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে ট্রাম্পের পরাজয়ের পর তাঁর সমর্থকগোষ্ঠী ৬০টিরও বেশি মামলা করেছিল। তবে সেসব মামলায় নির্বাচনের ফল পাল্টানোর প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
তৎকালীন বিচার বিভাগের পেশাদার কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটিকে সরাসরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের চাপ প্রতিহত করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমান প্রশাসনের পদক্ষেপের তুলনা টেনে সমালোচকেরা বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
বিচার বিভাগকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ
‘রুল অব ল প্রজেক্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকারবিষয়ক নির্বাচনী সুরক্ষা শাখার সাবেক প্রধান মার্ক ব্লুমবার্গ বলেন, বর্তমান প্রশাসন বিচার বিভাগকে এমনভাবে প্রভাবিত ও ব্যবহার করতে চাইছে, যা আগে আইনি ও নীতিগতভাবে নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত হতো।
অন্যদিকে, সমালোচনার জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ দাবি করেছেন, বিচার বিভাগের নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ আইনসম্মত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য জনগণের ভোটের মর্যাদা ও স্বচ্ছতা রক্ষা করা।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এ আইনি পদক্ষেপগুলোর পরিণতি কী হবে, তা আদালতের সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।

