তুরস্কে ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স সামিটে’ যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; প্রধান কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেবে ঢাকা।
তুরস্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এর দুই দিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিটে’ যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্মেলনে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং প্রধান কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলোর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার দাবি জানাবে বাংলাদেশ।
আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত সফরে তুরস্ক যাবেন এবং দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নেবেন।
৯ নভেম্বর শুরু কপ৩১, উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন ১১ ও ১২ নভেম্বর
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) ৩১তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (কপ৩১) আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ার ‘আনতালিয়া এক্সপো সেন্টারে’ অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের অংশ হিসেবে ১১ ও ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে উচ্চপর্যায়ের ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিট’।
এ সম্মেলনে প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা, জলবায়ু অভিযোজন জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন বাড়ানো এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে বৈশ্বিক রূপান্তর এগিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঋণের বদলে অনুদানভিত্তিক অর্থায়নে জোর
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, জলবায়ু সহনশীলতা ও অভিযোজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন তুলে ধরার পাশাপাশি উন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রতি দায়িত্ব পালনে চাপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়নের পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরবে। বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে যেসব দেশের অবদান খুবই কম, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় তাদের ওপর অতিরিক্ত ঋণের বোঝা চাপানো উচিত নয় বলে মনে করে বাংলাদেশ।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘কার্বন নির্গমনে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রায় শূন্যের কোঠায় হলেও শেষ পর্যন্ত আমাদেরই এর পরিণতি ভোগ করতে হয়।’
আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তির আওতায় প্রধান কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও সম্মেলনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।
সরকারের জলবায়ু উদ্যোগ তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী
গত ছয় মাসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নেওয়া পরিবেশ ও জলবায়ুসংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগ সম্মেলনে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে খাল খনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো।
শামা ওবায়েদ বলেন, এসব উদ্যোগ জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও বৃহত্তর এশিয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে এবং এর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় প্রতিরোধ গড়ে তুলছে, তা-ও তুলে ধরা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
সফরসূচি জানানো হবে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি, সফরসঙ্গীদের তালিকা এবং সম্মেলনে বাংলাদেশের বিস্তারিত অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, সফরের আগে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের দাবি
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে সহজলভ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে জলবায়ু অভিযোজন, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে এ অর্থায়নকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে বাংলাদেশ।
জলবায়ু সংকটের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় রাজনৈতিক অঙ্গীকার জোরদার, আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত এবং দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এ সম্মেলনে অংশ নেবেন।
সম্মেলনটির আয়োজক ও সভাপতিত্ব করবে তুরস্ক। অন্যদিকে, আলোচনা ও দরকষাকষির কার্যক্রমে সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করবে অস্ট্রেলিয়া।

