সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত ৩০ লাখ ৯১ হাজার রিয়াল ফেরত; ২০২৭ সালের হজের বিমানভাড়া কমেছে ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা
২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত ১০ কোটি টাকার বেশি অর্থ ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছে সরকার। ফেরত পাওয়া অর্থের পরিমাণ ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। রোববার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসেইন কায়কোবাদ।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এ অর্থ ফেরত পাওয়া উল্লেখযোগ্য সাফল্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার নাগরিকদের অধিকার ও আর্থিক স্বার্থ রক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
৩৪০ হজযাত্রীর বিপরীতে সংরক্ষিত ছিল অর্থ
ধর্মমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল সংরক্ষণ করেছিল।
এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়া ৩১০ জনের বিপরীতে ছিল ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ সৌদি রিয়াল। অন্যদিকে, সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়া ৩০ জনের বিপরীতে সংরক্ষণ করা হয়েছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৯২ সৌদি রিয়াল।
বিষয়টি জানার পর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দা সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে। তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন ও আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
২৯ অক্টোবর নুসুক সিস্টেমে জমা হয় ফেরত পাওয়া অর্থ
ধর্মমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ ফেরত পাওয়ার নজির ছিল না। বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যকর কূটনৈতিক সমন্বয়ের ফলে অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার ‘নুসুক’ (Nusuk) সিস্টেমে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত জমা হয়েছে।
এ সাফল্যের জন্য সৌদি সরকার, বিশেষ করে দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ধর্মমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের হজযাত্রীদের কল্যাণে সৌদি সরকারের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে ৪ হাজার ৩৪১ হজযাত্রীকে ফেরত
ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের পবিত্র হজের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। অর্থ তাঁদের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে।
তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং তাঁদের অর্থের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। হজ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
২০২৭ সালের হজের বিমানভাড়া কমেছে ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা
হজযাত্রীদের ব্যয় কমানোর ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের হজের বিমানভাড়া ২০২৬ সালের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান ধর্মমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ২০২৩ সালে হজের বিমানভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ ও দিকনির্দেশনায় বিমানভাড়াসহ ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজের সামগ্রিক ব্যয় কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও সাশ্রয়ী করার অঙ্গীকার
ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় সরকারের মূল লক্ষ্য হলো হজযাত্রীদের হয়রানি ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, সেবার মান বাড়ানো এবং তাঁদের অর্থের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের কোনো হজযাত্রীর আর্থিক স্বার্থ ও ন্যায্য অধিকার যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে অঙ্গীকার করেন তিনি। হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও জনবান্ধব, সাশ্রয়ী ও সুশৃঙ্খল করতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান ধর্মমন্ত্রী।

