আইসিটি মন্ত্রীর সঙ্গে সুইডিশ রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে ‘ওয়ান আইডি–ওয়ান ওয়ালেট’, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নিরাপদ ডিজিটাল পরিচয় ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা
ডিজিটাল রূপান্তর, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও সুইডেন। এ লক্ষ্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস।
রোববার (১ নভেম্বর) ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি ডিজিটাল জনপরিকাঠামো, নিরাপদ ডিজিটাল পরিচয়ব্যবস্থা, অনলাইন আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা এবং নাগরিকবান্ধব ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
নিরাপদ ডিজিটাল পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা
বৈঠকে ‘ওয়ান আইডি–ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব পায়। এ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিরাপদ ডিজিটাল পরিচয়, অনলাইন আর্থিক লেনদেনের সুরক্ষা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। নিরাপদ ব্যাংকিং ও পরিচয়প্রযুক্তিতে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল সেবা ও অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যম, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়। বরং অনলাইন হয়রানি, অপপ্রচার, ক্ষতিকর কনটেন্ট এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য। প্রস্তাবিত আইন ও নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি পূর্ণ সম্মান রাখা হবে বলেও জানান তিনি।
এআইয়ের সম্ভাবনা ও তরুণদের কর্মসংস্থান
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং দায়িত্বশীল ব্যবহার নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, এআইয়ের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান, মানবসম্পদ উন্নয়ন, তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এবং প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহারের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে।
বিশেষ করে দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ ও নতুন স্নাতকদের জন্য ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
সুইডিশ রাষ্ট্রদূত এ ক্ষেত্রে সরকার, বেসরকারি খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে সহযোগিতার আগ্রহ
বাংলাদেশের ডিজিটাল জনপরিকাঠামো উন্নয়ন ও সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে সুইডেনের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস।
তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ, সাইবার নিরাপত্তা ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণে পূর্বানুমেয় নিয়ন্ত্রক পরিবেশ, সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ ও বহুমুখী প্রযুক্তি অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা
বৈঠকে শিশু-কিশোরদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে অভিভাবকদের ভূমিকা এবং ডিজিটাল শিক্ষার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়।
উভয় পক্ষ অনলাইন নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিকত্ব গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র এবং প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাৎকালে সুইডেন দূতাবাসের প্রথম সচিব ওলি লুন্ডিন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে ডিজিটাল প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের বিদ্যমান যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।

