নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, খোলা বাসে সমাবেশস্থলে গেলেন বিরোধী নেতারা
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশ করেছে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া ব্লক’। নির্বাচনে কথিত অনিয়ম ও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ তুলে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) জোটের শীর্ষ নেতারা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবন থেকে খোলা বাসে করে রামলীলা ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাবেশকে কেন্দ্র করে রামলীলা ময়দান ও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীরা জড়ো হন।
রামলীলা ময়দানে সমাবেশ, নিরাপত্তা জোরদার
সমাবেশের আগে রামলীলা ময়দানের বাইরে ‘ইন্ডিয়া ব্লক’-এর ‘চলো দিল্লি’ পদযাত্রার প্রচারপত্র ও পোস্টার লাগানো হয়। সমাবেশস্থলে নিরাপত্তারক্ষীদেরও মোতায়েন করা হয়। ভারতের ছাত্র ফেডারেশনের (এসএফআই) একটি পোস্টেও এ কর্মসূচির কথা তুলে ধরা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে বিরোধী জোটের দীর্ঘদিনের সমালোচনার ধারাবাহিকতায় এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। জোটটির নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ বা অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছেন।
সিইসির বিরুদ্ধে ছয় অভিযোগ বিরোধীদের
এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতীকী ‘জনতার অভিশংসন’ কর্মসূচি পালন করে ইন্ডিয়া জোট। এ সময় নেতারা হাত তুলে ভোট দিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেন।
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগ এনেছে বিরোধী জোট। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে যোগসাজশ করে নির্বাচন চুরির ষড়যন্ত্র, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমের মাধ্যমে ১৩ কোটি ২০ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে কাজ করা।
বিরোধী জোটের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থ রক্ষা করছেন। তবে এগুলো বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ।
এসআইআর ও ‘ভোট চুরি’ নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া এবং ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই সরব ইন্ডিয়া জোট। বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের এ প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে জোটটি ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি পালন করছে। নতুন সমাবেশের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে নিজেদের আপত্তি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চাইছে তারা।
২৬ দলের সমন্বয়ে গঠিত ইন্ডিয়া জোট
ভারতের জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপিকে পরাজিত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই বিরোধী দলগুলো ‘ইন্ডিয়া’ নামের জোট গঠনের ঘোষণা দেয়। দক্ষিণ ভারতের বেঙ্গালুরুতে এক বৈঠকে ২৬টি রাজনৈতিক দল এ উদ্যোগের কথা জানায়।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, ‘ইন্ডিয়া’ নামটি ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। জোটটির লক্ষ্য বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোকে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ করা।

