অনুসরণ করুন:
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

সুগন্ধি চালের দাম হঠাৎ বাড়ল কেন?

পোলাও, মাংস অথবা রোস্ট কে না খেতে ভালোবাসে! পোলাও অথবা বিরিয়ানি হোক, কিংবা খিচুড়ি
সবখানেই রয়েছে সুগন্ধি চাল অথবা পোলাওয়ের চালের ব্যবহার। সুগন্ধি চাল ছাড়া আমাদের কোনো উৎসব-পার্বণ যেন আমরা কল্পনাই করতে পারি না। অথচ সেই চালেরই কিনা হু হু করে দাম বেড়ে যাচ্ছে।

বিগত জুন ও জুলাই মাস থেকে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বাজারে তড়িঘড়ি করেই একপ্রকার সুগন্ধি চালের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেটি প্রতি কেজি ১৬০ টাকা থেকে ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আমাদের দেশে বার্ষিক সুগন্ধি চালের চাহিদা রয়েছে ৬ থেকে ৮ লাখ মেট্রিক টন। আর উৎপাদন হয় ১২ থেকে ১৫ লাখ মেট্রিক টন। চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদিত হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখার উদ্দেশ্যে বিগত সরকারের আমলে ছয় মাসে ২৫ হাজার মেট্রিক টন চাল রপ্তানি করার অনুমোদন দেওয়া হয় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে।
পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে ৪৫ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়।
তবে ২০২৬ সালে আগস্ট পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মাএ ২ হাজার ৪১৯ মেট্রিক টন চাল রপ্তানি করতে পেরেছিল।

কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, প্রকৃতপক্ষে সুগন্ধি চালের দাম ১৪০ টাকা থেকে ২৫০ টাকায় বেড়ে যাওয়া কতটুকু যুক্তিসংগত? আর সত্যিই কি কৃষকেরা তাঁদের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন, নাকি মধ্যস্বত্বভোগী প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত মুনাফার জন্য সিন্ডিকেট করে লাভবান হচ্ছেন?

বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, কৃষকেরা ধান কাটার সময় প্রতি মণ মাত্র ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে তাঁরা পেয়েছেন ৩৮ থেকে ৪৫ টাকা। আর সেই চাল পলিশ ও প্যাকেজিংয়ের খরচসহ সব মিলিয়ে ১০৮ থেকে ১২০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। আর খোলা চালের দাম ৯০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যেই থাকার কথা।

কিন্তু সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদন বা লাইসেন্স নিয়ে অনেক রপ্তানিকারক ও মধ্যস্বত্বভোগী প্রতিষ্ঠান সুগন্ধি চাল চড়া দামে বিক্রির জন্য মজুত করে রাখছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। তাঁদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হতে পারে।

সুগন্ধি চালের দামকে কেন্দ্র করে বাজারে কৃত্রিম অস্থিতিশীলতা রোধ এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনস্বার্থে বর্তমান সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আগে অনুমোদিত ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত রপ্তানি কোটা অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। এর মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে।

রপ্তানি কোটা কমিয়ে আনার উদ্দেশ্য হলো, সুগন্ধি চালের চড়া দাম যেন কমে আসে এবং সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটি প্রশ্ন থেকেই যায়,পর্যাপ্ত সুগন্ধি চালের মজুত থাকা সত্ত্বেও এবং রপ্তানি কোটা পুরোপুরি পূরণ না হলেও কীভাবে বাজারে সুগন্ধি চালের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যার কারণে দাম বেড়ে যাচ্ছে?

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন