অনুসরণ করুন:
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

গালাপাগোসে ভারী বৃষ্টিতে একজনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার পরিবার

এল নিনোর প্রভাবে বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা, নিখোঁজ দুজন; সান্তা ক্রুজ ও সান ক্রিস্টোবালের ছয় পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ

ইকুয়েডরের গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জে ভারী বৃষ্টিপাতে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় দুই হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়েছে। শনিবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। এ ছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুজন।

কুইটো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার বিকেল থেকে দ্বীপপুঞ্জে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘এমন দুর্যোগ কল্পনাও করিনি’

গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে জনবহুল সান্তা ক্রুজ দ্বীপে বৃষ্টিপাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। দ্বীপটির বাসিন্দাদের নিজেদের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। জরুরি সেবা সংস্থা ইসিইউ ৯১১ এবং স্থানীয় গণমাধ্যম প্রকাশিত ছবিতে এ দৃশ্য উঠে এসেছে।

সান্তা ক্রুজের মেয়র ফ্যানি উরিবে এএফপিকে বলেন, ‘সান্তা ক্রুজে এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। আমরা কল্পনাও করিনি যে এমন কিছু ঘটতে পারে। এটি ছিল এমন এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা আমাদের সব ধারণা ছাড়িয়ে গেছে।’

প্রায় ২ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত

সান্তা ক্রুজ পৌরসভার প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টিতে প্রায় দুই হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হারিয়েছে।

মেয়র ফ্যানি উরিবে বলেন, ‘তারা সবকিছু হারিয়েছেন। পরনের কাপড় ছাড়া তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।’

ইকুয়েডরের জরুরি সেবা সংস্থা ইসিইউ ৯১১ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এ পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুজন। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।

ছয়টি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

ভারী বৃষ্টিপাতের পর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে গালাপাগোস ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষ পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সান্তা ক্রুজ দ্বীপের চারটি এবং সান ক্রিস্টোবাল দ্বীপের দুটি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের চারটি দ্বীপে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মানুষের বসবাস। দ্বীপপুঞ্জটি জীববৈচিত্র্য ও পর্যটনের জন্য সুপরিচিত। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটন কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন