অনুসরণ করুন:
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

ভেনেজুয়েলার সেনা হামলায় ইএলএনের অন্তত ৯ সদস্য নিহতের দাবি

কলম্বিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীর শিবিরে হামলা, আরও অন্তত ১০ যোদ্ধা নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা স্থানীয়দের

ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর হামলায় দেশটির সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থানরত কলম্বিয়ার বামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠী ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (ইএলএন) কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দেশটির আপুরে রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্রোহীদের একটি শিবিরে এ হামলা চালানো হয়। শনিবার একটি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফান্ডারেডেস নামের একটি বেসরকারি সংস্থার পরিচালক হাভিয়ের তারাজোনা জানিয়েছেন, তাঁদের এক কর্মী ঘটনাস্থলের ভিডিও দেখে অন্তত নয়টি মরদেহ শনাক্ত করেছেন। তবে হামলায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিদ্রোহীদের শিবিরে সেনা হামলা

হাভিয়ের তারাজোনা এএফপিকে বলেন, শুক্রবার ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী দেশটির ভূখণ্ডে অবস্থানরত ইএলএন বিদ্রোহীদের একটি শিবিরে হামলা চালায়।

ফান্ডারেডেস প্রকাশিত একটি ভিডিওতে আপুরে রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকায় মাটিতে পড়ে থাকা কয়েকটি মরদেহ, উপড়ে পড়া গাছ এবং বিদ্রোহীদের শিবিরের ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে।

মানবাধিকারকর্মী ও সামরিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রোসিও সান মিগেল জানান, স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথম সেনা হামলার খবর দেন। তাঁদের ধারণা, এ ঘটনায় ইএলএনের আরও অন্তত ১০ জন যোদ্ধা নিহত হয়ে থাকতে পারেন।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে এএফপির পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথম হামলার দাবি

তারাজোনার দাবি, গত জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটির সেনাবাহিনী এই প্রথম ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে অবস্থানরত ইএলএন বিদ্রোহীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে সমাজতান্ত্রিক শাসনের অধীনে থাকা ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুতির পর পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে দেশটি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিপুল তেলসম্পদসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইএলএন

কলম্বিয়ার ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি বা ইএলএন দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে সশস্ত্র তৎপরতা চালিয়ে আসছে। ২০১৬ সালে কলম্বিয়ার সরকার ও ফার্ক গেরিলা বাহিনীর মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর ইএলএন লাতিন আমেরিকার অন্যতম শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিতি পায়।

কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে দুই হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় ইএলএন ছাড়াও ফার্কের কয়েকটি বিদ্রোহী অংশ সক্রিয় রয়েছে। ২০১৬ সালের শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল এসব গোষ্ঠীর সদস্যরা।

বর্তমানে এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী মাদক পাচার—বিশেষ করে কোকেনের ব্যবসা—এবং অবৈধ খনির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িত।

বিদ্রোহীদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ

দীর্ঘদিন ধরে কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতার সরকার অভিযোগ করে আসছিল, ভেনেজুয়েলা কলম্বিয়ার বামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে আসছে।

সাম্প্রতিক সেনা হামলার ঘটনা সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর ভেনেজুয়েলার সামরিক পদক্ষেপের নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে হামলার কারণ, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন