এডেনে পরপর দুটি বিস্ফোরণ, প্রাসাদে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশের খবর; সৌদি আরবের মদিনায় ড্রোন ভূপাতিতের দাবি জোটের
ইয়েমেনের এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ করেছে দেশটির সরকারি বাহিনী। শুক্রবার শহরটিতে পরপর দুটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, শুক্রবার এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। তবে হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এডেনে হুতিদের হামলার অভিযোগ
এডেন ইয়েমেনের প্রাচীন বন্দর শহর ও দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত। রাজধানী সানা থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার এ শহর থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করে।
সরকারি বাহিনীর দাবি, শুক্রবার এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। বিস্ফোরণের পর প্রাসাদে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে দেখা গেলেও সেখানে কতজন আহত হয়েছেন বা কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে এডেনে একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে।
মদিনায় ড্রোন ধ্বংসের দাবি সৌদি জোটের
এদিকে ইয়েমেনে যুদ্ধে জড়িত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, সৌদি আরবের মদিনা প্রদেশ লক্ষ্য করে ইরান-সমর্থিত একটি গোষ্ঠীর পাঠানো ড্রোন প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে মদিনায় ড্রোন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছেন, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সৌদি ভূখণ্ডে কোনো অভিযান চালায়নি। মদিনার আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করার সৌদি দাবি মিথ্যাচারের অংশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংঘাতে বাস্তুচ্যুত ২ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ
ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে ২ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, দেশটির লাহজ অঞ্চলের খারাজ শরণার্থী শিবিরের প্রায় ৯ হাজার ৫০০ বাসিন্দা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
নিরাপত্তাহীনতা ও মানবিক সহায়তার ঘাটতি শিবিরটির বাসিন্দাদের পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে। সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপত্তা ও জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

