শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ইরানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন যুদ্ধ বন্ধে সর্বাত্মক সহযোগিতার ঘোষণা পুতিনের

ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্টের আশ্বাস; সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতারও প্রস্তাব মস্কোর

প্রান্তকাল আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ঘিরে চলমান যুদ্ধের অবসানে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি জানিয়েছেন, সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে মস্কো সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) তুর্কমেনিস্তানে দুই দেশের প্রেসিডেন্টের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাবেক সোভিয়েতভুক্ত দেশগুলোর জোট কমনওয়েলথ অব ইনডিপেনডেন্ট স্টেটসের (সিআইএস) শীর্ষ সম্মেলনের আগে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ইরান যুদ্ধ এবং দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

রুশ বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, পেজেশকিয়ানকে পুতিন বলেন, পরিস্থিতির সমাধানে রাশিয়া তার সামর্থ্যের মধ্যে সবকিছু করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরান সংঘাত বন্ধে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং যুদ্ধ শুরুর জন্য তেহরান দায়ী নয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন ও আঞ্চলিক কূটনীতিতেও।

পুতিনের সর্বশেষ বক্তব্যের আগে বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তিনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, ওই আলোচনাতেও যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তবে মস্কোর মধ্যস্থতায় আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা শুরু হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।

রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বেড়েছে। ২০২৫ সালে দুই দেশ একটি বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তিতে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বিজ্ঞান, শিক্ষা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক সম্প্রসারণের বিষয় রয়েছে। তবে এতে এক দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের বাধ্যবাধকতা নেই।

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের অবনতি এবং ইরানের ওপর দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে মস্কো ও তেহরান পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়েছে। ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে রাশিয়াকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য রাশিয়া ইরানকে তথ্য সরবরাহ করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে ইরান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ চললেও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনাকে অর্থহীন বলে মন্তব্য করেছিলেন।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালাবে না ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। তবে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ বহাল রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধ বন্ধে পুতিনের সহযোগিতার ঘোষণা নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের সম্ভাবনা সামনে এনেছে। তবে রাশিয়া কীভাবে মধ্যস্থতা করবে, যুক্তরাষ্ট্র সেই উদ্যোগে অংশ নেবে কি না এবং যুদ্ধ বন্ধের জন্য উভয় পক্ষ কোন শর্তে সম্মত হতে পারে—এসব বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।

তুর্কমেনিস্তানের বৈঠকে পুতিন রাশিয়া ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতিতেও সন্তোষ প্রকাশ করেন। দুই দেশের প্রেসিডেন্ট এর আগে গত সেপ্টেম্বরে কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠক করেছিলেন।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, এএফপি, ইন্টারফ্যাক্স ও ইরনা


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন