বায়ুদূষণ বিপজ্জনক মাত্রার দিকে, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জরুরি সিদ্ধান্ত; সিঙ্গাপুরেও ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত ধোঁয়াশা
প্রান্তকাল আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইন্দোনেশিয়ার বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া দাবানলের ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে প্রতিবেশী মালয়েশিয়ার জনজীবন। ঘন ধোঁয়াশায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বায়ুদূষণ অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছানোয় রাজধানী কুয়ালালামপুরসহ একাধিক রাজ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার শিক্ষামন্ত্রী ফাদলিনা সিদেক বৃহস্পতিবার রাতে জানান, জোহর, মালাক্কা, নেগেরি সেম্বিলান ও সেলাঙ্গর রাজ্যের সব স্কুল শুক্রবার বন্ধ থাকবে। একই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে রাজধানী কুয়ালালামপুর, প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়া এবং পাহাং রাজ্যের রমপিন জেলায়। তবে দেশের অন্য কয়েকটি রাজ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
দাবানলের ধোঁয়া বাতাসের সঙ্গে সীমান্ত অতিক্রম করে মালয়েশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বাতাসে ক্ষতিকর সূক্ষ্ম কণার উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মালয়েশিয়ার সরকারি বায়ুদূষণ সূচক অনুযায়ী, ১০১ থেকে ২০০ মাত্রার দূষণকে অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ মাত্রাকে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০০-এর বেশি মাত্রাকে বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শুক্রবার সকালে দেশটির ৩৭টি এলাকায় বায়ুদূষণ অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে ছিল।
এর আগে বুধবার জোহর রাজ্যের বাতু পাহাত জেলায় দূষণের মাত্রা ২০০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় স্কুল, কিন্ডারগার্টেনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরদিন থেকে পুরো জোহর রাজ্যে দুই দিনের জন্য স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ঘরে বসে পাঠদান চালু রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ধোঁয়াশার প্রভাব মালয়েশিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে সিঙ্গাপুরেও পৌঁছেছে। বুধবার দেশটির বায়ুদূষণ পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত প্রধান শহরগুলোর তালিকার শীর্ষে উঠে আসে। একই সময়ে কুয়ালালামপুরও মারাত্মক দূষণের কবলে পড়ে।
ইন্দোনেশিয়ার একাধিক প্রদেশে বন ও ভূমিতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে চলা দাবানল থেকে উৎপন্ন ধোঁয়া প্রতিবেশী দেশগুলোর পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো ধোঁয়াশা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সম্মত হয়েছেন। মালয়েশিয়াও প্রয়োজনে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
একই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে সীমান্ত অতিক্রম করে ছড়িয়ে পড়া বায়ুদূষণ মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
দাবানল থেকে সৃষ্ট এই ধোঁয়াশা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্য নতুন কোনো সমস্যা নয়। তবে এবারের পরিস্থিতিতে একাধিক দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, জনস্বাস্থ্য এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমে যে প্রভাব পড়েছে, তা আঞ্চলিক পরিবেশগত সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে এনেছে।

