শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, কমছে মজুরি বৃদ্ধির হার: চাপে সাধারণ মানুষ

সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৮.৩৪ শতাংশ, মজুরি বৃদ্ধির হার ৭.৯০ শতাংশ; আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় কমছে ক্রয়ক্ষমতা

প্রান্তকাল অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

দেশে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যে মজুরি বৃদ্ধির হার আরও কমেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম যে হারে বাড়ছে, সেই তুলনায় শ্রমজীবী মানুষের আয় বাড়ছে ধীরগতিতে। ফলে বিশেষ করে নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত সেপ্টেম্বর মাসের মূল্যস্ফীতি ও মজুরি সূচকের প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশে। আগের মাস আগস্টে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ০৮ শতাংশীয় পয়েন্ট।

অন্যদিকে একই সময়ে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ৯০ শতাংশে নেমেছে। এতে সার্বিক মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি বৃদ্ধির হার শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশীয় পয়েন্ট পিছিয়ে পড়েছে।

মূল্যস্ফীতি ও মজুরি বৃদ্ধির হারের এই ব্যবধান শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে যেসব পরিবার মাসিক আয়ের বড় অংশ খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াতে ব্যয় করে, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতিও সেপ্টেম্বরে বেড়েছে। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ০২ শতাংশ, যা সেপ্টেম্বরে বেড়ে ৭ দশমিক ২২ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ হয়েছে। আগস্টে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার এখনও বেশি।

গ্রাম ও শহরের হিসাবেও মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত রয়েছে। সেপ্টেম্বরে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ, আর শহরাঞ্চলে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ শহরের তুলনায় গ্রামে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা বেশি।

এদিকে কৃষি, শিল্প ও সেবা—তিনটি প্রধান খাতেই মজুরি বৃদ্ধির হার কমেছে। সেপ্টেম্বরে কৃষি খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশে, যা আগস্টে ছিল ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ। শিল্প খাতে এ হার ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ হয়েছে।

এসব পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, প্রধান তিনটি খাতেই মজুরি বৃদ্ধির হার সার্বিক মূল্যস্ফীতির নিচে রয়েছে। এর অর্থ, গড়ে মজুরি বাড়লেও সেই বৃদ্ধি পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না।

অর্থনীতির ভাষায় মূল্যস্ফীতি কমা মানেই পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়; বরং দাম বৃদ্ধির গতি কমে আসা। একইভাবে মজুরি বৃদ্ধির হার কমার অর্থ সরাসরি মজুরি কমে যাওয়া নয়। কিন্তু মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি বৃদ্ধির হার কম থাকলে একই পরিমাণ আয়ে আগের তুলনায় কম পণ্য ও সেবা কেনা সম্ভব হয়।

বিবিএসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান তাই দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও আয় বৃদ্ধির মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধানকে নতুন করে সামনে এনেছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মূল্যস্ফীতি ও মজুরি সূচক প্রতিবেদন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন