অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

রিজার্ভে স্বস্তি, বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ৩৬.১২ বিলিয়ন ডলার

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী দেশের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, আইএমএফের বিপিএম৬ (Balance of Payments Manual, Sixth Edition) পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের একটি পৃথক হিসাব প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ হিসাবে বিভিন্ন ধরনের দায় ও সম্পদের বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে গ্রস রিজার্ভের তুলনায় বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণ কিছুটা কম থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্যেও এ ব্যবধান দেখা যাচ্ছে। মোট রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার হলেও আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে এর পরিমাণ ৩১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার।

সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কিছুটা ওঠানামা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম৬ অনুযায়ী ছিল ৩১ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন এবং বিপিএম৬ অনুযায়ী ৩১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার।

এদিকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতে রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ওপরে ছিল। ১ সেপ্টেম্বর গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম৬ অনুযায়ী ৩২ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আমদানি দায় পরিশোধসহ বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনের কারণে রিজার্ভে ওঠানামা হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অক্টোবরের প্রথম কয়েক দিনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রবাসী আয় দেশে এসেছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবাহ, রপ্তানি আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে রিজার্ভ পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক দায় পরিশোধের ওপরও রিজার্ভের অবস্থান নির্ভর করবে।

সামগ্রিকভাবে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ওপরে থাকা অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। পাশাপাশি আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ৩১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারে অবস্থান করায় বৈদেশিক লেনদেনের সক্ষমতা ও অর্থনীতির সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন