অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়াতে ৩০০ কোটি টাকার তহবিল দাবি

দেশের পুঁজিবাজারে চলমান তারল্য সংকট মোকাবিলা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তহবিল সুবিধার সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। সংগঠনটি প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের জন্য বিদ্যমান ২০০ কোটি টাকার তহবিলসীমা বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করার পাশাপাশি সুবিধাটির মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

এ বিষয়ে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি গত ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠির অনুলিপি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খানের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

ডিবিএর চিঠিতে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ও বাজারের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের চালু করা বিশেষ তহবিল সুবিধা ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ সুবিধার আওতায় ব্যাংকগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে তারল্য ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বর্তমানে প্রতিটি তফসিলি ব্যাংক সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারে। তবে বিদ্যমান এ সুবিধার মেয়াদ আগামী ৩০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সুবিধাটি সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন মেয়াদ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে ডিবিএ।

সংগঠনটির মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ তহবিল সুবিধা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাজারের তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে তহবিলের সীমাও পুনর্নির্ধারণ করা জরুরি।

ডিবিএর প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের সর্বোচ্চ সীমা ২০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা হলে ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সক্ষমতা আরও বাড়বে।

একই সঙ্গে বিদ্যমান সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে আরও পাঁচ বছরের জন্য এ সুবিধা চালু রাখার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। এ ক্ষেত্রে ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০৩১ পর্যন্ত বিশেষ তহবিল সুবিধার মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

ডিবিএর বিবেচনায়, তহবিলের সীমা বাড়ানো হলে ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারে তুলনামূলকভাবে বেশি বিনিয়োগ করতে পারবে। এতে বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনের গভীরতা ও বাজারের সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

ডিবিএ বলেছে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও আর্থিক বাজারে অস্থিরতা রয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির এ ধরনের পরিস্থিতির প্রভাব দেশের আর্থিক বাজার ও পুঁজিবাজারেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় পুঁজিবাজারে পর্যাপ্ত তারল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংগঠনটি। বিশেষ তহবিল সুবিধার সীমা বাড়ানো হলে বাজারে অতিরিক্ত তারল্য সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে ডিবিএ।

সংগঠনটির মতে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়লে বাজারে বিনিয়োগের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে লেনদেনের গভীরতা বাড়বে, বাজারের অস্থিরতা কিছুটা কমানো সম্ভব হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাও পুনর্গঠনে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

ডিবিএ মনে করে, পুঁজিবাজারে ব্যাংকসহ বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়লে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও ইতিবাচক বার্তা তৈরি হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় উপস্থিতি বাজারে স্থিতিশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখতে পারে।

সংগঠনটির মতে, দীর্ঘমেয়াদে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানো গেলে দেশের পুঁজিবাজারকে আরও স্থিতিশীল, গভীর ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সম্ভব হবে। এ কারণে বিশেষ তহবিল সুবিধাকে শুধু স্বল্পমেয়াদি তারল্য সহায়তা হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি বাজার উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ডিবিএ।

সংগঠনটির দাবি, বিশেষ তহবিলের সীমা ৩০০ কোটি টাকা করা এবং এর মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানো হলে বর্তমান তারল্য সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের ভিত্তিও আরও শক্তিশালী হবে। এর মাধ্যমে বাজারে তারল্য বৃদ্ধি, লেনদেনের গভীরতা বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরদারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রস্তাবিত বিশেষ তহবিল সুবিধার সীমা ও মেয়াদ বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডিবিএ।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন