দুই দেশের সংসদীয় অভিজ্ঞতা বিনিময় ও শিক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব
বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সংসদীয় সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের (APPG) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক, শিক্ষা সহযোগিতা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, সংখ্যালঘুদের অবস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য আপসানা বেগম (Apsana Begum) ও শওকত আদম (Shockat Adam) এবং যুক্তরাজ্যের অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের কর্মকর্তা লর্ড কুরবান হুসেইন (Lord Qurban Hussain)।
বৈঠকের শুরুতে প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় অভিনন্দন জানায়। এ সময় ডেপুটি স্পিকার বলেন, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশে ও বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
বাংলাদেশ–যুক্তরাজ্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা
ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক গভীর ও ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ। দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরাও দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন নাগরিক সুবিধার সঙ্গেও এসব উদ্যোগের সাদৃশ্য রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ রয়েছে। সংসদীয় কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশে ব্রিটিশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখা নিয়ে আলোচনা
বৈঠকে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখা বাংলাদেশে চালুর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে প্রতিনিধিদল।
ডেপুটি স্পিকার এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে বলেন, ব্রিটিশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করলে তাদের শিক্ষার মান নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য যুক্তরাজ্য থেকে শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় পেশাজীবী নিয়োগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন
বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও জানতে চায় ব্রিটিশ প্রতিনিধিদল।
জবাবে ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের সব নাগরিককে সমানভাবে বিবেচনা করা হয়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেকেই বর্তমানে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনার একপর্যায়ে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের সংসদে দীর্ঘ সময় ধরে নারী নেতৃত্ব থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করে।
সংসদীয় গণতন্ত্র ও বিরোধী দলের ভূমিকা
দেশের বর্তমান সংসদীয় পরিস্থিতি তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, বিগত দেড় দশকে দেশে গণতন্ত্র কার্যকর ছিল না। বর্তমানে সংসদীয় গণতান্ত্রিক কার্যক্রম সচল রয়েছে এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো আগের তুলনায় আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে।
জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকার বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি বলেন, বিরোধী দল এখন সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যা দেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
শিক্ষার্থীদের সংসদ সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা দেওয়ার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিপ্রায় অনুযায়ী স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংসদ অধিবেশন দেখা এবং জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে।
‘সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না’
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার বলেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না। গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও শক্তিশালী করতে আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে জনমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সংসদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করে।
সাক্ষাৎ শেষে ডেপুটি স্পিকার ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলকে জাতীয় সংসদ ভবন ও জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করে।
বৈঠকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

