মিষ্টি স্বাদের জনপ্রিয় ফল খেজুর। দেশে বিশেষ করে রমজানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উপলক্ষে খেজুরের ব্যবহার বেশি হলেও পুষ্টিগুণের কারণে নিয়মিত খাদ্যতালিকাতেও এটি রাখা যেতে পারে। খেজুরে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার ও প্রাকৃতিক শর্করা শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে সহায়ক হতে পারে।
খেজুরে প্রোটিন, ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন বি-১, বি-২, বি-৩, বি-৫ ও ভিটামিন এসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। পাশাপাশি এতে লোহা ও ফ্লোরিনের মতো খনিজ উপাদানও পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খেজুরে চর্বির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম এবং এতে থাকা খাদ্যআঁশ পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার থাকায় নিয়মিত পরিমাণে খেজুর খাওয়া হজম প্রক্রিয়ার জন্য উপকারী হতে পারে।
খেজুরে প্রাকৃতিকভাবে গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ রয়েছে। ফলে এটি দ্রুত শক্তি জোগাতে পারে। দিনের মাঝামাঝি সময়ে ক্ষুধা মেটাতে খেজুর স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসেবেও খাওয়া যেতে পারে। ওটস, দুধ বা অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের সঙ্গে খেজুর যোগ করা যায়।
খেজুরে লোহা থাকায় রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের খাদ্যতালিকায় এটি রাখা যেতে পারে। তবে শুধু খেজুর খেয়ে অ্যানিমিয়া বা অন্য কোনো রোগের চিকিৎসা করা যায় না; প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
এ ছাড়া খেজুরে থাকা খনিজ উপাদান দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্যও সহায়ক হতে পারে। তবে দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধে নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার করা ও প্রয়োজনীয় দন্তচিকিৎসা নেওয়াও জরুরি।
খেজুরে থাকা খাদ্যআঁশ অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। এ কারণে পরিমিত পরিমাণে খেজুর খাওয়া হজম প্রক্রিয়া ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিডও খেজুরে পাওয়া যায়।
খেজুর সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি দুধের সঙ্গে মিশিয়েও খাওয়া যায়। বিচি ছাড়ানো কয়েকটি খেজুর রাতে দুধে ভিজিয়ে রেখে সকালে দুধসহ ব্লেন্ড করে নেওয়া যেতে পারে। স্বাদ বাড়াতে সামান্য মধু বা এলাচগুঁড়া যোগ করা যায়।
তবে খেজুরে প্রাকৃতিক শর্করার পরিমাণ বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের পরিমাণ নির্ধারণে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
পুষ্টিবিদদের মতে, সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে খেজুর খেলে শরীর প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পেতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার একমাত্র উপায় হিসেবে খেজুরকে বিবেচনা না করে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

