মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

মোটা হয়ে যাচ্ছে আপনার সন্তান? যেসব বিষয়ে সতর্ক হবেন

শিশুর ওজন বয়স ও উচ্চতার তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা শুধু শিশুর শারীরিক গঠনের বিষয় নয়; দীর্ঘমেয়াদে এটি বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই শিশুর ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডে অভ্যস্ত করা জরুরি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশুদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার প্রবণতা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু ওবেসিটির সমস্যায় ভুগছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। বাংলাদেশেও বিশেষ করে শহরাঞ্চলের শিশুদের মধ্যে শারীরিক কর্মকাণ্ড কমে যাওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে অতিরিক্ত ওজনের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

শিশুদের ওজন বাড়ার পেছনে পর্যাপ্ত হাঁটা-চলা ও খেলাধুলার অভাব, কোমল পানীয়, ফাস্টফুড, অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার এবং দীর্ঘ সময় টেলিভিশন, কম্পিউটার বা মোবাইল গেমসে ব্যস্ত থাকার মতো অভ্যাস ভূমিকা রাখতে পারে।

মোটা হওয়া মানেই সুস্থতা নয়

অনেক অভিভাবকের ধারণা, শিশু দেখতে একটু মোটা হলে সে বেশি সুস্থ। তবে এ ধারণা সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। শিশুর সুস্থতা নির্ভর করে তার বয়স, উচ্চতা, ওজন, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং সামগ্রিক পুষ্টির ওপর।

আবার কোনো শিশু তুলনামূলকভাবে রোগা হলেও সে যে অসুস্থ, এমনটিও নয়। তাই শুধু শিশুর বাহ্যিক গঠন দেখে তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ক্যালরি ও শারীরিক কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ

শিশুর ওজন নিয়ন্ত্রণে খাদ্য থেকে পাওয়া শক্তি এবং শারীরিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ব্যয় হওয়া শক্তির মধ্যে ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ এবং শারীরিক কর্মকাণ্ড কম থাকলে দীর্ঘ সময় ধরে ওজন বাড়তে পারে।

যেসব শিশু নিয়মিত খেলাধুলা, দৌড়ঝাঁপ ও অন্যান্য শারীরিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়, তাদের শরীর সক্রিয় থাকে। তাই শিশুদের দৈনন্দিন জীবনে বয়স উপযোগী খেলাধুলা ও শরীরচর্চার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

শিশুর স্থূলতা এড়াতে যা করবেন

অস্বাস্থ্যকর খাবার সীমিত করুন: শিশুকে নিয়মিত চিপস, পেস্ট্রি, কোমল পানীয়, অতিরিক্ত মিষ্টি ও ফাস্টফুড খাওয়ার অভ্যাস থেকে দূরে রাখুন। এসব খাবারের পরিবর্তে ফল, দুধ, বাদামসহ পুষ্টিকর খাবার দেওয়া যেতে পারে।

সুষম খাদ্য নিশ্চিত করুন: শিশুর বয়স ও শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী সুষম খাদ্যতালিকা তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর ওজন নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

খাওয়ার সময় স্ক্রিন এড়িয়ে চলুন: টেলিভিশন, মোবাইল বা ভিডিও গেম দেখতে দেখতে খাওয়ার অভ্যাস শিশুর খাবারের প্রতি মনোযোগ কমাতে পারে। তাই সম্ভব হলে পরিবারের সঙ্গে নির্দিষ্ট জায়গায় বসে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন।

শারীরিক কর্মকাণ্ড বাড়ান: শিশুকে নিয়মিত খেলাধুলা, হাঁটা, দৌড়ানো বা বয়স উপযোগী অন্যান্য শারীরিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করুন। ঘরে বসে দীর্ঘ সময় টিভি, কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহারের সময়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন।

জোর করে খাওয়াবেন না: শিশু ক্ষুধার্ত না থাকলে জোর করে খাওয়ানোর পরিবর্তে তার ক্ষুধা ও খাবারের ধরন পর্যবেক্ষণ করা ভালো। নির্দিষ্ট সময়ে মূল খাবারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর নাশতার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

ঘুম ও খাবারের সময়ের দিকে নজর দিন: রাতে খাবার খাওয়ার পরপরই ঘুমানোর অভ্যাসের পরিবর্তে খাবার ও ঘুমের মধ্যে পর্যাপ্ত সময় রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে।

সবশেষে, শিশুর ওজন বাড়ছে কি না তা শুধু চোখে দেখে নির্ধারণ করা উচিত নয়। বয়স ও উচ্চতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশ পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। শিশুর ওজন দ্রুত বাড়তে থাকলে বা স্থূলতার লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসক বা শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন