বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা-ভাঙচুর, ডিএনসিসির গাড়িতে আগুন

পুলিশ-সাংবাদিকদের ওপরও হামলা; অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা ডিএনসিসি প্রশাসকের

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের হোপ মার্কেট এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হকারদের সঙ্গে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সিটি করপোরেশনের একাধিক যানবাহন ও একটি পুলিশ গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ সদস্য ও সংবাদ সংগ্রহে থাকা গণমাধ্যমকর্মীরাও।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ এলাকার ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা ও দোকান উচ্ছেদের অংশ হিসেবে হোপ মার্কেটের সামনে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, একপর্যায়ে হকার ও উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

ইউএনবির প্রতিবেদনে ডিএনসিসির একজন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের মধ্যে সিটি করপোরেশনের দুটি ডাম্প ট্রাকে আগুন দেওয়া হয় এবং তিনটি বুলডোজার ভাঙচুর করা হয়। একটি পুলিশ গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন।

ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া গণমাধ্যমকর্মীরাও হামলার শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ইউএনবি জানিয়েছে, যমুনা টেলিভিশনের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং সময় টেলিভিশনের একজন প্রতিবেদক ও একজন ক্যামেরাপারসনের ওপর হামলা হয়। সমকালের আলোকচিত্রী মাহবুব হোসেন নবীনও হামলায় আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার সময় আগুনের সূত্রপাত নিয়ে অবশ্য ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। কয়েকজন হকারের দাবি, উচ্ছেদের সময় বৈদ্যুতিক তার থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দোকানের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অন্যদিকে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন পরবর্তী হামলা ও অগ্নিসংযোগকে পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দুপুর সোয়া ২টার দিকে হোপ মার্কেট এলাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রম আবার শুরু হয়।

ঘটনাস্থলে ডিএনসিসি প্রশাসক

হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব এবং কোনো ধরনের বাধার মুখে উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ করা হবে না।

হামলা, ভাঙচুর ও অরাজকতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ডিএনসিসি প্রশাসকের ভাষ্য অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের কর্মী ও যানবাহন, পুলিশ এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ডিএনসিসি ও পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক মামলা করা হবে এবং তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, নগরবাসীর চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত থাকবে। মিরপুর-১০ গোলচত্বর এলাকায় এর আগে দখলমুক্ত করা ফুটপাতে গাছ লাগিয়ে পথচারীদের চলাচলের পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; ঢাকা উত্তরের অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

হকারদের বিকল্প ব্যবস্থার প্রশ্নও উঠেছে

অন্যদিকে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করার বিষয়টিও সামনে এসেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে উচ্ছেদের আগে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন।

হোপ মার্কেট এলাকার ঘটনার পর ডিএনসিসি নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে বলেছে, জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং নগরীর শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার কার্যক্রমে নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন