পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ড্রেজিং সমস্যা সমাধান করা গেলে পায়রা বন্দর দেশের সবচেয়ে কার্যকরী বন্দরে পরিণত হবে। পায়রা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ড্রেজিং ও হপার ড্রেজার ক্রয়ের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন।
তিনি বলেন, পায়রা বন্দর অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করেছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিছু সংকটের কারণে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। বর্তমানে বন্দরটির সক্ষমতা বাড়ানো ও নাব্যতা সংকট নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ড্রেজিং ও হপার ড্রেজার ক্রয়ের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই প্রকল্পটি একনেকের অনুমোদন পাবে।’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বন্দরের নাব্যতা সংকট অনেকটাই সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দেশের অন্যান্য বন্দরের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে প্রচণ্ড ব্যস্ততা রয়েছে এবং মোংলা বন্দরেও নাব্যতা সংকট রয়েছে। তার মতে, এ অবস্থায় পায়রা বন্দরের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে দেশের সমুদ্রবন্দর ব্যবস্থাপনায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘একমাত্র নিরাপদ বন্দর পায়রা। ড্রেজিং সমস্যা সমাধান করতে পারলে পায়রা বন্দর হবে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী বন্দর।’ পায়রা বন্দরকে কার্যকর ও সক্ষম করে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে সংসদ সদস্য পায়রা বন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় বন্দরের বর্তমান কার্যক্রম, নাব্যতা, ড্রেজিংসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
পরে তিনি পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং বন্দরের উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল সৈয়দ সাইফ-উল ইসলাম, কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান, কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকাদার, উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ এবং পায়রা বন্দরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

