সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কেরানীগঞ্জ কারাগারে তিন বন্দির মৃত্যু, ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় মরদেহ

ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে তিন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুজন কারাগারে অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অপর একজন কয়েক দিন আগে অসুস্থ হয়ে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মৃত দুই বন্দি হলেন—চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সেকান্দার আলীর ছেলে হাজতি আবুল বাশার (৫৪) এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার দুদু মিয়ার ছেলে কয়েদি আব্দুল কাইয়ুম (৬২)। তারা কোন মামলায় কারাগারে বন্দি ছিলেন, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।

কারারক্ষী শহীদ ও হেমায়েত হোসেন জানান, রোববার সকালে কারাগারের পৃথক দুটি স্থানে আবুল বাশার ও আব্দুল কাইয়ুম হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুই বন্দির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। এরপর ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেক বন্দির মৃত্যু

এদিকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের আরেক কয়েদি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন লিটন (৪৮) ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

কারারক্ষী আমিনুল ইসলাম জানান, গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন শাহাদাত হোসেন লিটন। পরে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মেডিসিন বিভাগের ৫০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

কারারক্ষী আমিনুল ইসলাম আরও জানান, শাহাদাত হোসেন লিটন কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদি হিসেবে বন্দি ছিলেন। তার বাবার নাম মৃত আব্দুল কাদের। তার গ্রামের বাড়ি খুলনার দৌলতপুর থানার পাবলা গ্রামে।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, শাহাদাত হোসেন লিটন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মামলা নম্বর ১১/০৭ এবং উত্তরা থানার মামলা নম্বর ৯(১১)০৬-এর ৩০২, ৩৪ ও ২০১ ধারার মামলায় বন্দি ছিলেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে শাহাদাত হোসেন লিটনের মৃত্যুর বিষয়টিও নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন