মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

জেএএসএস অ্যাকসেসরিজে ১৩.৩৫ লাখ কেজি কাঁচামালের ঘাটতি, শুল্ক-কর ঝুঁকি ৯ কোটি টাকা

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবস্থিত বন্ডেড এক্সেসরিজ প্রতিষ্ঠান জাস অ্যাকসেসরিজ (বিডি) লিমিটেডে (জেএএসএস অ্যাকসেসরিজ) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) পরিদর্শনে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা প্রায় ১৩ লাখ ৩৫ হাজার কেজি কাঁচামালের ঘাটতির তথ্য পাওয়া গেছে। এসব কাঁচামালের বিপরীতে প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ টাকার শুল্ক-কর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবস্থিত জেএএসএস অ্যাকসেসরিজ (বিডি) লিমিটেডে পরিদর্শন ও যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এ সময় প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ইউপি (ইউটিলাইজেশন পারমিশন) তথ্যের সঙ্গে বন্ডেড ওয়্যারহাউসে থাকা কাঁচামালের প্রকৃত মজুত যাচাই করা হয়।

পরিদর্শনে কাগজপত্রে উল্লেখিত মজুতের সঙ্গে বাস্তব মজুতে বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া যায়।

হিসাবের চেয়ে কম ১৩.৩৫ লাখ কেজি কাঁচামাল

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ইউপি তথ্যের ভিত্তিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউসে মোট ১৯ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ কেজি কাঁচামাল মজুত থাকার কথা ছিল। তবে সরেজমিন পরিদর্শনে সেখানে পাওয়া যায় মাত্র ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮১ দশমিক ২ কেজি কাঁচামাল।

অর্থাৎ হিসাব অনুযায়ী মজুত থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি কাঁচামাল পাওয়া যায়নি। ঘাটতির এ পরিমাণকে প্রায় ১৩ দশমিক ৩৫ লাখ কেজি হিসেবে উল্লেখ করেছে এনবিআর।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রাথমিক যাচাইয়ে বিপুল পরিমাণ কাঁচামালের এই ঘাটতি ধরা পড়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

এনবিআর জানায়, সর্বশেষ আমদানিকৃত বিল অব এন্ট্রিতে ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী বন্ডেড ওয়্যারহাউসে পাওয়া না যাওয়া কাঁচামালের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬৭ হাজার ৬৪১ টাকা।

এসব কাঁচামালের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট শুল্ক ও করের পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ১৫৪ টাকা। ফলে ঘাটতি পাওয়া কাঁচামাল নিয়ে সরকারের রাজস্ব আদায়ে প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ টাকার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

জেএএসএস অ্যাকসেসরিজ বন্ডেড সুবিধার আওতায় বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করে থাকে। এসব কাঁচামালের মধ্যে রয়েছে এলডিপিই, এইচডিপিই, এলএলডিপিই, পিপি, জিপিপিএস, এইচআইপিএস, বিওপিপি, ডুপ্লেক্স বোর্ড এবং রাবার থ্রেড ইয়ার্নসহ বিভিন্ন উপকরণ।

বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা এসব কাঁচামাল অনুমোদিত উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যবহার করে পণ্য রপ্তানির বিধান রয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল কোথায় গেল এবং সেগুলো অনুমোদিত উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ছাড়া বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা কাঁচামাল অনুমোদিত ব্যবহারের বাইরে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়টিও যাচাই করা হচ্ছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের আমদানি-সংক্রান্ত নথি, ইউটিলাইজেশন পারমিশন, মজুত ও ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্যসহ প্রয়োজনীয় দলিলপত্র যাচাই করছেন।

এনবিআর জানিয়েছে, প্রাথমিক পরিদর্শনে কাঁচামালের হিসাব ও প্রকৃত মজুতের মধ্যে যে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে, তার বিস্তারিত যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত ও প্রয়োজনীয় দলিলপত্র পর্যালোচনা শেষে প্রকৃত ঘটনা ও দায় নির্ধারণ করা হবে।

তদন্তে বন্ড সুবিধার কোনো অনিয়ম বা অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন