শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

‘আমাদের সমালোচনা করুন, ভুল ধরিয়ে দিন—আসুন একসঙ্গে কাজ করি’

পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তরুণদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজের আহ্বান

পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের কার্যক্রমের ঘাটতি ও ভুলগুলো তুলে ধরে তা সংশোধনে সহযোগিতা করতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক) ড. মোঃ সাইমুম পারভেজ।

তিনি বলেছেন, সরকারের সমালোচনা করার পাশাপাশি তরুণদের নতুন চিন্তা ও উদ্ভাবনী ধারণা নীতিনির্ধারণে যুক্ত হলে পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ আরও কার্যকর হতে পারে।

বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ‘লোকাল কনফারেন্স অব ইয়ুথ বাংলাদেশ ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

তরুণদের উদ্দেশে ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, ‘আমাদের সমালোচনা করুন, আমাদের ভুল ধরিয়ে দিন। আসুন, একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করি।’

তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষাকে কেবল সরকারের প্রকল্প বা একক দায়িত্ব হিসেবে দেখলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। সরকার, তরুণ প্রজন্ম, নাগরিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সবার মধ্যে নিজ নিজ দায়িত্ববোধ তৈরি হলে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সহজ হবে।

জলবায়ু সংকটে প্রয়োজন বৈশ্বিক ঐক্য

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কোনো একটি দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে ড. সাইমুম পারভেজ জাতীয় উদ্যোগের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, তরুণদের নিয়ে আয়োজিত এ ধরনের সম্মেলন ও প্ল্যাটফর্ম নতুন ধারণা বিনিময় এবং সম্মিলিত উদ্যোগ তৈরির সুযোগ করে দেয়। তরুণদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে সমস্যা দেখার সক্ষমতা নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

কপ৩১-এর প্রস্তুতিতে তরুণদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ

আসন্ন কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রস্তুতিতেও তরুণদের যুক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন, দেশের অবস্থানপত্র এবং আলোচনার অগ্রাধিকার নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় তরুণদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে সরকার।

সম্মেলনে তরুণদের উত্থাপিত বিভিন্ন প্রস্তাবের সঙ্গে সরকারের পরিবেশবিষয়ক পরিকল্পনারও সামঞ্জস্য রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে তরুণদের প্রত্যাশা ও সরকারি উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে বলে জানান ড. সাইমুম পারভেজ।

পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য

দেশে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার বিষয়ে ড. সাইমুম পারভেজ জানান, মূল কর্মসূচিটি এখনো গবেষণা ও পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে।

বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে শুধু সংখ্যার ওপর গুরুত্ব না দিয়ে কোন এলাকার মাটি ও পরিবেশের জন্য কোন প্রজাতির গাছ উপযোগী, সেটি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে স্থানীয় ও দেশীয় প্রজাতির গাছকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর পাশাপাশি দুই কোটি ম্যানগ্রোভ গাছ রোপণের একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে এবং চলতি বছর থেকেই এর কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

শুধু গাছ লাগানো নয়, বাঁচিয়ে রাখার ওপরও গুরুত্ব

বৃক্ষরোপণের পর যথাযথ পরিচর্যার অভাবে গাছ নষ্ট হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন ড. সাইমুম পারভেজ। তিনি বলেন, শুধু চারা রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না; দীর্ঘমেয়াদে গাছের পরিচর্যা ও টিকে থাকা নিশ্চিত করতে হবে।

এ লক্ষ্যে অ্যাপভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ এবং পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

গাছের রক্ষণাবেক্ষণে নারীদের ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করার আগ্রহের কথা জানিয়ে ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, এ কার্যক্রমের প্রায় ৮০ শতাংশ দায়িত্ব নারীদের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিবেশ সুরক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সরকার, তরুণ প্রজন্ম, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজন একসঙ্গে কাজ করলেই কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব।

পরিবেশের ক্ষতি করে কিংবা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে—এমন কোনো পদক্ষেপ সরকার নিতে চায় না বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন