অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে কমিশন কেটে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির দাবি, গ্রেপ্তার স্নিগ্ধ সিকদার (৩১) একাধিক অনলাইন জুয়া সাইটের পরিচালনাকারী ও এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টার দিকে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্নিগ্ধ সিকদার নড়াইল সদর উপজেলার বালিয়াট গ্রামের বাসিন্দা।
সিআইডি জানায়, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় দেশের অভ্যন্তর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ও জুয়া সাইটের কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলা এবং অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
সিআইডির ভাষ্য, তদন্তে অনলাইন বেটিং সাইটে ব্যবহৃত বিভিন্ন এজেন্টের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাবসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে জানা যায়, চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের মাধ্যমে এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ করত। পরে জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে এজেন্টদের কমিশন দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো বলে সিআইডি জানিয়েছে।
সিআইডি আরও জানায়, এ মামলায় এর আগে গত ১৩ জুলাই সুমন রায় (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে তাকে আন্তর্জাতিক অনলাইন বেটিং ও অবৈধ জুয়া চক্রের বাংলাদেশ অংশের অন্যতম প্রধান সমন্বয়কারী এবং অর্থ জমা ও উত্তোলন (ডিপোজিট-উইথড্র) কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে নতুন জুয়া সাইটের কাস্টমার সাপোর্ট পরিচালনার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।
সিআইডির দাবি, সুমন রায় আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে সহযোগী হিসেবে স্নিগ্ধ সিকদারের নাম উল্লেখ করেন তিনি। পরবর্তী তদন্তে স্নিগ্ধের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পর তাকে মামলার তদন্তে প্রাপ্ত অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর স্নিগ্ধ সিকদারকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।
সিআইডি জানায়, একই মামলায় এর আগে টাঙ্গাইল, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, নড়াইল ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মো. সোলায়মান, মো. সাগর মিয়া, মো. জুয়েল রানা, মো. রায়হান খান, মো. পাভেল রহমান ভূঁইয়া, আবু জোবায়ের সানি, মো. জসিম উদ্দিন, সৈয়দ জামান, রুহুল কুদ্দুস ওরফে বাপ্পী, বাবলু মিয়া, মো. মনির হোসেন, নূর সাফায়েত ইপ্তি ও শামীম আল মামুন রয়েছেন।
অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের অবৈধ লেনদেন, অর্থপাচার এবং এর সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সিআইডি। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক, অবৈধ ই-ট্রানজেকশন এবং অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কার্যক্রম চলছে।
অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। পাশাপাশি এ ধরনের কার্যক্রমে কোনো ব্যক্তি বা চক্রের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন না করার এবং অনলাইন জুয়া বা অবৈধ অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য জানা থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

