সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩১ হাজার টাকায় কন্যাশিশু বিক্রির অভিযোগ, গাইবান্ধায় বাবাসহ গ্রেপ্তার ৪

গাইবান্ধায় ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া ১৩ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা, দুই মধ্যস্থতাকারী ও কথিত ক্রেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সাদুল্লাপুর উপজেলার সাহারাবাজার (মন্দুয়ার) গ্রামের মো. হামিদুল ইসলাম (৩৩), গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর কোমরপুর গ্রামের মো. আব্দুল মজিদ সরকার (৩৬), ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া গ্রামের মোছা. মোর্শেদা খাতুন (৪৫) এবং একই গ্রামের মোছা. জেসমিন আক্তার (২৮)। হামিদুল ইসলাম শিশুটির বাবা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুলাই হামিদুল ইসলাম তার ১৩ মাস বয়সী কন্যা ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে বিস্কুট কিনে দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বাজারে নিয়ে যান। পরে আব্দুল মজিদ সরকার ও মোর্শেদা খাতুনের মধ্যস্থতায় শিশুটিকে জেসমিন আক্তারের কাছে ৩১ হাজার টাকার বিনিময়ে দেওয়া হয়।

এরপর শিশুটির কোনো খোঁজ না পেয়ে তার মা মোছা. রোমানা খাতুন (২২) আদালতের দ্বারস্থ হন। তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় আবেদন করলে আদালত গত ২৭ আগস্ট শিশুটির বাবা হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে তল্লাশি পরোয়ানা জারি করেন।

আদালতের নির্দেশনা এবং পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় শিশুটিকে উদ্ধারে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান শুরু করে।

পুলিশ জানায়, রোববার সকাল ১০টার দিকে সাদুল্লাপুরের সাহারাবাজার মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে হামিদুল ইসলামকে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ছোট উমরপুর গ্রাম থেকে আব্দুল মজিদ সরকারকে আটক করা হয়।

এরপর একই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে মোর্শেদা খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জেসমিন আক্তারের হেফাজত থেকে শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন বলেন, শিশুটিকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার মায়ের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

পুলিশের এই অভিযানের পর শিশুটিকে উদ্ধারের বিষয়টি এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অর্থের বিনিময়ে একটি শিশুকে অন্যের কাছে দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন