অনুসরণ করুন:
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামালপুরে বিচারক দম্পতির বাসায় চুরি: ৫ গ্রেপ্তার, তিনজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

জামালপুরে কর্মরত বিচারক দম্পতির ভাড়া বাসায় চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে চুরির ঘটনায় সরাসরি জড়িত তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ সময় চুরি যাওয়া স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে জামালপুর সদর থানার আমলাপাড়া এলাকায় বিচারক আহমাদুল কবির শাকিল ও বিচারক নুসরাত জেরিন জেনি দম্পতির ভাড়া বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা জানালার গ্রিল কেটে বাসায় প্রবেশ করে নগদ এক লাখ টাকা ও বিভিন্ন স্বর্ণালংকার চুরি করে। চুরি যাওয়া মালামালের মোট আনুমানিক মূল্য ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৮৫ টাকা।

এ ঘটনায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত, জামালপুরের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও নাজির এ কে এম ছরওয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে ১ জুলাই জামালপুর সদর থানায় মামলা করেন। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৩৭৯, ৩৮০, ৪৫৪ ও ৪৫৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

পরে বিজ্ঞ আদালত স্বপ্রণোদিতভাবে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই, জামালপুরের ওপর অর্পণ করেন। তদন্তের দায়িত্ব পান পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রুপন কুমার সরকার, পিপিএম-বার।

পিবিআই জানায়, সংস্থাটির অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় এবং জামালপুর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার পংকজ দত্তের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জামালপুরের বাগেরহাটা এলাকার হাবু মিয়ার ছেলে মো. রাহুল (২৪) ও মো. বিশাল (২১) এবং ডাকপাড়া এলাকার আব্দুল আজিজের ছেলে মো. দুখু মিয়াকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে রাহুল ও বিশালকে গত ২৫ আগস্ট এবং দুখু মিয়াকে ২ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআইয়ের তথ্যমতে, রাহুল ও বিশালকে ৩১ আগস্ট রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলায় আরও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে চোরাই স্বর্ণালংকার কেনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জামালপুর সদর উপজেলার মুকন্দবাড়ী এলাকার মৃত নবাব আলীর ছেলে মো. মাসুদ রানা (৪২) এবং মাদারগঞ্জ উপজেলার ভেলামারী এলাকার মৃত সোহরাব আলীর ছেলে মোশারফ হোসেনকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৩ সেপ্টেম্বর জামালপুর পৌরসভার বানিয়া বাজার এলাকা থেকে মাসুদ রানা এবং মাদারগঞ্জ থানার মিলন বাজার এলাকা থেকে মোশারফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই আরও জানায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর মাসুদ রানা ও মোশারফ হোসেনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তারা চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার কেনার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাসুদ রানার হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার গলিয়ে তৈরি করা এক টুকরো স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এর ওজন ২৩ দশমিক ১৯ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এ ছাড়া মোশারফ হোসেনের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার গলিয়ে তৈরি করা বিভিন্ন অলংকার, যার ওজন ৮ আনা ৫ রতি এবং আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। একই সঙ্গে প্রায় ২৬ ভরি ওজনের রুপার অলংকারও উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৪ হাজার টাকা। উদ্ধার করা আলামত জব্দ তালিকার মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার, তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং আসামিদের দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি পর্যালোচনা করে পিবিআই জানায়, রাহুল, বিশাল ও দুখু মিয়াসহ সহযোগীরা ঘটনার দিন সন্ধ্যায় বিচারক দম্পতির তৃতীয় তলার ভাড়া বাসায় জানালার গ্রিল কেটে প্রবেশ করে চুরি করেন।

পিবিআইয়ের তথ্যমতে, মামলায় সরাসরি চুরির ঘটনায় জড়িত হিসেবে গ্রেপ্তার রাহুল, বিশাল ও দুখু মিয়াকে আদালতে হাজির করা হলে তারা প্রত্যেকেই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এ বিষয়ে পিবিআই, জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে মামলাটি পাওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা ও অভিযান দলের সদস্যদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটন, আসামি গ্রেপ্তার এবং আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

পিবিআই জানিয়েছে, মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট চোরাই স্বর্ণালংকার উদ্ধারে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন