অনুসরণ করুন:
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্যাস সংকটের মধ্যে স্বস্তি, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো নতুন সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট

তিতাস-২৮ কূপে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু • খননে ব্যয় প্রায় ২০০ কোটি টাকা • গ্যাস সংকট কিছুটা কমার প্রত্যাশা

দেশে চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো নতুন করে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে বাণিজ্যিকভাবে এই গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আনুষ্ঠানিকভাবে কূপটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পরপরই কূপটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়।

তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের সি-ব্লকের ২৮ নম্বর কূপটি ৩ হাজার ৬০১ মিটার গভীর। কূপটি থেকে দৈনিক প্রায় ১২ থেকে ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূসক ও আয়করসহ এটি খননে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর কূপটির খননকাজ শুরু হয়। প্রায় পাঁচ মাস পর চলতি বছরের ২৭ মে খনন শেষ হয়। এরপর প্রায় দুই মাস পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস সরবরাহের পর শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যিক সরবরাহ শুরু হলো।

বর্তমানে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩২৫ থেকে ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে। নতুন কূপের সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট যোগ হওয়ায় দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বাড়বে।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের জ্বালানি চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ঘাটতি রয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে। দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং গ্যাসের চাহিদা-সরবরাহের ব্যবধান কমিয়ে আনাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

এদিকে তিতাসের ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ নিয়েও কাজ চলছে। এসব কূপে সফলভাবে উৎপাদন শুরু হলে জাতীয় গ্রিডে দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দেশে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আবাসিক খাতে গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহে বড় ঘাটতি রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে তিতাস-২৮ থেকে নতুন গ্যাস যুক্ত হওয়াকে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর চলমান প্রচেষ্টায় একটি সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন