শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাজারে নতুন চাপ: আটা-ময়দা ও ডিমের দাম বাড়ল, সয়াবিনে কাটেনি সংকট

এক মাসে ময়দা কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা পর্যন্ত • এক লিটারের সয়াবিনের বোতল মিলছে কম • ডিমের ডজন ১৬০ টাকা • কাঁচা মরিচ ১৮০ টাকা পর্যন্ত

প্রান্তকাল বাজার প্রতিবেদন

দাম বাড়ানোর পরও বাজারে কাটেনি বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট। এর মধ্যেই নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে আটা, ময়দা ও ডিম। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এক মাসের ব্যবধানে খোলা ময়দার দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সময়ে আটার দামও ঊর্ধ্বমুখী। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের ডজনে বেড়েছে ১০ টাকা পর্যন্ত। কাঁচা মরিচও আবার চড়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজারের খুচরা দরে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি সংকট এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলে। দোকানে দুই ও পাঁচ লিটারের বোতল কিছু পাওয়া গেলেও ছোট বোতলের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে কম।

খুচরা ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, পরিবেশকদের কাছে চাহিদা দেওয়ার পরও প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, পরিশোধনকারী কোম্পানি থেকে বাজারে এক লিটারের বোতল কম আসছে।

অথচ মাত্র দুই সপ্তাহ আগে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা করা হয়। নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর ক্রেতাদের প্রত্যাশা ছিল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। কিন্তু খুচরা বাজারের চিত্র বলছে, বিশেষ করে ছোট বোতলের ক্ষেত্রে সেই সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

বোতলের সংকটে খোলা তেলও চড়া

বোতলজাত তেলের ঘাটতির প্রভাব পড়েছে খোলা তেলের বাজারেও। বিভিন্ন দোকানে খোলা সয়াবিন তেল ১৯৮ থেকে ২০০ টাকা লিটার এবং পাম তেল ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা লিটার দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাজার করতে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, দাম বাড়ার পরও প্রয়োজনমতো বোতলজাত তেল না পাওয়ায় অনেককে খোলা তেল কিনতে হচ্ছে। বিশেষ করে কম পরিমাণে তেল কিনতে চান এমন পরিবারের জন্য এক লিটারের বোতলের সংকট বেশি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আটার কেজি ৫০, খোলা ময়দা ৭০ টাকা পর্যন্ত

এদিকে আটা ও ময়দার বাজারে গত এক মাসে উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। খুচরা বাজারে খোলা আটা এখন প্রতি কেজি প্রায় ৫০ টাকা। এক মাস আগে একই আটা প্রায় ৪৫ টাকায় পাওয়া যেত।

ময়দায় বৃদ্ধির হার আরও বেশি। খোলা ময়দা এখন বাজারভেদে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাসখানেক আগে এর দাম ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। অর্থাৎ বাজারের হিসাবে এক মাসে কেজিতে সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

মোড়কজাত ময়দার দাম আরও বেশি। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দুই কেজির প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। সে হিসাবে প্রতি কেজির দাম দাঁড়াচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের হিসাবেও আটা-ময়দার মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা রয়েছে। তবে খুচরা ব্যবসায়ীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী বাজারে মূল্যবৃদ্ধির মাত্রা কিছু ক্ষেত্রে টিসিবির হিসাবের চেয়ে বেশি।

বেকারি পণ্যের দামেও চাপ

আটা-ময়দাসহ বিভিন্ন কাঁচামালের ব্যয় বৃদ্ধির কথা বলে বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পর সেই মূল্যবৃদ্ধি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

বেকারি পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে প্রকৃত ব্যয় কতটা বেড়েছে, তা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে আটা-ময়দার বর্তমান ঊর্ধ্বমুখী বাজার শেষ পর্যন্ত রুটি, বিস্কুটসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্যের দামে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিও এখন নজরে রয়েছে।

ডিমের ডজন উঠল ১৬০ টাকায়

প্রোটিনের অন্যতম সহজলভ্য উৎস ডিমের দামও আবার বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারভেদে ফার্মের লাল ডিমের ডজনে ১০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। কোথাও কোথাও প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়।

তবে মুরগির বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও স্বস্তি সীমিত

চাষের মাছের বাজারেও দাম বেশ চড়া। রুই প্রতি কেজি ৩৮০–৪২০ টাকা, কাতলা ৪০০–৪৪০ টাকা এবং ট্যাংরা ৫০০–৭৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া পাঙাশ ২৫০–৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০–২৮০ টাকা, পাবদা ৪০০–৪৫০ টাকা এবং চাষের কই ২৫০–৩২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

কাঁচা মরিচ আবার ১৮০ টাকা

সবজির বাজারে অধিকাংশ পণ্যের দাম আগের উচ্চ পর্যায়ের আশপাশেই রয়েছে। তবে নতুন করে বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। বাজারভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ এখন ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এর আগে দাম ছিল প্রায় ৮০ থেকে ১২০ টাকা।

একদিকে ভোজ্যতেলের সরবরাহ সংকট, অন্যদিকে আটা-ময়দা, ডিম ও কাঁচা মরিচের মূল্যবৃদ্ধি সব মিলিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের ব্যয়ের চাপ আরও বাড়ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন