শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বঙ্গোপসাগর পর্যবেক্ষণ ও জলবায়ু গবেষণায় চীনের FIO-এর সঙ্গে ঢাবির সমঝোতা স্মারক নবায়ন

সমুদ্রবিজ্ঞান, সমুদ্র পর্যবেক্ষণ, পূর্বাভাস, জলবায়ু গবেষণা ও দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চীনের ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি (FIO)-এর সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। এ লক্ষ্যে চীনের শাংদাওয়ে দুটি সমঝোতা স্মারক (MoU) নবায়ন করা হয়েছে।

শাংদাওয়ে অনুষ্ঠিত চীন-দক্ষিণ এশিয়া মেরিন কো-অপারেশন ফোরামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণের সময় এসব সমঝোতা স্মারক নবায়ন করা হয়। এর মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠানের চলমান যৌথ গবেষণা, সমুদ্র পর্যবেক্ষণ, তথ্য ও প্রযুক্তি বিনিময় এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের মিনিস্ট্রি অব ন্যাচারাল রিসোর্সেসের অধীন FIO-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। অপর সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয় FIO-এর মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড নিউমেরিক্যাল মডেলিং ল্যাবরেটরি (MASNUM-FIO) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান গভর্ন্যান্স (ICOG)-এর মধ্যে। এতে স্বাক্ষর করেন ICOG-এর পরিচালক ড. কে এম আজম চৌধুরী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবির, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও ICOG-এর পরিচালক ড. কে এম আজম চৌধুরী এবং সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আলিফ মোহাম্মদ খান। অনুষ্ঠানে FIO-এর উপ-মহাপরিচালকসহ চীনের মিনিস্ট্রি অব ন্যাচারাল রিসোর্সেসের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

যৌথ গবেষণা ও সমুদ্র পর্যবেক্ষণে অগ্রাধিকার

সমঝোতা স্মারক নবায়ন প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এটি নতুন কোনো সূচনা নয়; বরং চলমান সহযোগিতার ধারাবাহিকতা। FIO-এর সঙ্গে অংশীদারত্ব ইতোমধ্যে বাস্তব ফলাফল বয়ে এনেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

উপাচার্য জানান, যৌথ FIO-DU জরিপের আওতায় রাবনাবাদ চ্যানেল ও মেঘনা নদীর মোহনায় দুটি GNSS জিং-ওয়েই বয়া স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট-সংযুক্ত উপকূলীয় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সহায়তা হয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের গতিবিধি অধ্যয়নের জন্য FIO ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে FIO-COM মডেল ডেটা বিনিময় করেছে।

ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রে চারটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন উপাচার্য। এগুলো হলো—

  • বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় ও অফশোর এলাকায় অতিরিক্ত বয়া স্থাপনের মাধ্যমে GNSS সমুদ্র পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ।
  • উন্নত পূর্বাভাস ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের সরঞ্জাম, বিশেষ করে Ocean to Climate Seamless Forecasting System (OSF) Program ও COAST Toolkit নিয়ে সহযোগিতা জোরদার।
  • নিয়মিত যৌথ জরিপ এবং শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও ডেটা বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারণ।
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি China–Bangladesh Joint Research Laboratory প্রতিষ্ঠা।

দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে অংশীদারত্বের গুরুত্ব

আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে এই অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আগাম সতর্কীকরণ প্রাণ বাঁচায়, তবে তা কার্যকর করতে সুদৃঢ় বিজ্ঞান ও ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ICOG-এর পরিচালক ড. কে এম আজম চৌধুরী জানান, FIO-DU যৌথ জরিপের আওতায় বাংলাদেশি বিজ্ঞানী, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের GNSS বয়া সিস্টেম পরিচালনা, তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও প্রয়োগের বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, জাতিসংঘের Ocean Decade-এর আওতায় পরিচালিত Ocean to Climate Seamless Forecasting (OSF) System Program-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অংশীদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্ত রয়েছে।

২০২২ সালের সমঝোতার ধারাবাহিকতায় সহযোগিতা সম্প্রসারণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও FIO-এর মধ্যে মূল সমঝোতা স্মারক ২০২২ সালের আগস্টে স্বাক্ষরিত হয়। এর আওতায় ভৌত ও রাসায়নিক সমুদ্রবিজ্ঞান, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র, মেরিন স্প্যাশাল প্ল্যানিং এবং বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র ও জলবায়ু বিষয়ে যৌথ গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

নবায়িত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক সমুদ্র পর্যবেক্ষণ, পূর্বাভাস, গবেষণা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময় এবং দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধিতে এই অংশীদারত্ব অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন