বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নির্বাচনী বিধিতে বড় পরিবর্তন, প্রার্থী-এজেন্টের ব্যাংক হিসাব দিতে হবে

হলফনামায় পরিবারের আয়কর তথ্য ঐচ্ছিক • ‘অভিযুক্ত’ শব্দের ব্যাখ্যা নির্ধারণ • ১২০ প্রতীকের তালিকায় ‘নৌকা’ স্থগিত • একক প্রার্থীর ক্ষেত্রে থাকছে ‘না’ ভোট

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী ব্যয়, প্রার্থীর হলফনামা ও প্রতীক বরাদ্দের বিধানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্য দাখিলের ক্ষেত্রে প্রার্থীর পাশাপাশি তাঁর নিয়োজিত নির্বাচনী এজেন্টের ব্যাংক হিসাব নম্বর দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রার্থীর স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীলদের আয়করসংক্রান্ত তথ্য দাখিল ঐচ্ছিক করা হয়েছে।

‘নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮’ সংশোধন করে এসব বিধান যুক্ত করেছে ইসি। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ৯৪ অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে সংশোধনগুলো আনা হয়েছে।

নির্বাচনী ব্যয়ের ব্যাংক হিসাবে পরিবর্তন

সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, মনোনয়নপত্রের ফরম-১-এ নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাবের তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থী অথবা তাঁর নিয়োজিত নির্বাচনী এজেন্টের হিসাব নম্বর উল্লেখ করা যাবে।

এর ফলে নির্বাচনী ব্যয় পরিচালনায় প্রার্থীর নিজস্ব ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োজিত নির্বাচনী এজেন্টের হিসাবও বিধিমালার আওতায় এল।

পরিবারের আয়কর তথ্য দেওয়া ঐচ্ছিক

প্রার্থীর হলফনামার ক্ষেত্রেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সংশোধিত বিধিমালার সংযুক্তি-১-এর ক্রমিক ১০-এর বিশেষ দ্রষ্টব্য অনুযায়ী, ছকের ক্রমিক ২, ৩ ও ৪-এ উল্লেখ করা স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং নির্ভরশীল ব্যক্তিদের আয়করসংক্রান্ত তথ্য দেওয়া ঐচ্ছিক হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ ছাড়া হলফনামার সংযুক্তি-১-এর ক্রমিক ৩(খ)-এর বিশেষ দ্রষ্টব্যেও পরিবর্তন এসেছে। আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য ‘সংযুক্ত করিতে হইবে’ বলা থাকলেও সংশোধনের পর সেটি ‘দাখিল ঐচ্ছিক’ হিসেবে বিবেচনার বিধান রাখা হয়েছে।

কে ‘অভিযুক্ত’, স্পষ্ট করল ইসি

ফৌজদারি মামলার তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও ‘অভিযুক্ত’ শব্দটির সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা যুক্ত করা হয়েছে।

সংশোধিত বিধিমালায় বলা হয়েছে, ‘অভিযুক্ত’ বলতে এমন আসামিকে বোঝানো হবে, যার বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ বা চার্জ গঠন করেছেন।

ফলে কোনো মামলায় শুধু আসামি হিসেবে নাম থাকা এবং আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠিত হওয়ার মধ্যে পার্থক্যটি হলফনামার বিধানে স্পষ্ট করা হলো।

১২০ প্রতীক, ‘নৌকা’ স্থগিত

নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের বিধানেও পরিবর্তন এনেছে কমিশন। সংশোধিত বিধি ৯-এর উপবিধি (১) অনুযায়ী, স্থগিত প্রতীক বাদ দিয়ে নির্ধারিত তালিকা থেকে প্রাপ্যতা সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া যাবে।

গেজেটে মোট ১২০টি নির্বাচনী প্রতীকের তালিকা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ নম্বরে থাকা ‘নৌকা’ প্রতীককে স্থগিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে স্থগিত থাকা অবস্থায় প্রতীকটি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বরাদ্দ দেওয়া যাবে না।

একক প্রার্থী হলেও ভোট, ব্যালটে থাকবে ‘না’

সংশোধিত বিধিমালার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ‘না’ প্রতীক। কোনো আসনে একজন মাত্র প্রার্থী থাকলেও ভোটারদের মতামত প্রকাশের সুযোগ রাখতে ব্যালটে ‘না’ প্রতীক রাখার বিধান করা হয়েছে।

অর্থাৎ একক প্রার্থী থাকলেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার প্রচলিত পরিস্থিতির পরিবর্তে ভোটাররা ওই প্রার্থীর বিপরীতে ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন—সংশোধিত বিধিমালায় সেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও ‘নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮’-এর সংশোধনীগুলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনসংক্রান্ত আইনি কাঠামোর অংশ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে।

নির্বাচন সামনে রেখে একসঙ্গে নির্বাচনী ব্যয়ের ব্যাংক হিসাব, হলফনামায় তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা, ফৌজদারি মামলায় ‘অভিযুক্ত’-এর সংজ্ঞা এবং প্রতীক বরাদ্দের নিয়মে এসব পরিবর্তন প্রার্থীদের মনোনয়ন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন