বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাংবাদিকরা আছেন বলেই দেশে গণতন্ত্র টিকে আছে: তথ্যমন্ত্রী

ক্রাইম রিপোর্টারদের ঝুঁকির কথা তুলে ধরে বললেন—সাংবাদিকদের পর্যাপ্ত সুরক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

সাংবাদিকতাকে গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেছেন, সাংবাদিকরা আছেন বলেই দেশে গণতন্ত্র টিকে আছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করা সাংবাদিকদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অপরাধবিষয়ক সাংবাদিকতার ঝুঁকি তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ক্রাইম রিপোর্টারদের অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হয়। পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে অনেক সময় তাঁদের চড়া মূল্যও দিতে হয়।

সাংবাদিকদের সুরক্ষার ঘাটতির বিষয়টিও স্বীকার করেন তিনি। আন্দালিভ রহমান বলেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত মানুষের পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার মতো কার্যকর ব্যবস্থা এখনো গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।

সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই তাঁকে কাজ করতে হবে। দায়িত্ব কতটা পালন করতে পারবেন, সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে সাংবাদিকদের প্রয়োজনে তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন হলে তাঁরা সরাসরি তাঁর কাছে এসে সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। রাজনৈতিক পটভূমি থেকে আসায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা সহজে উপলব্ধি করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘পুরোনো ভাঙাচোরা ভবন ঠিক করা কঠিন’

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন ১৫টি দপ্তর ও সংস্থার প্রত্যেকটির প্রতি নিজের দায়িত্ব রয়েছে উল্লেখ করে আন্দালিভ রহমান বলেন, গত ১৭ বছরে একটি ব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে বলে তিনি মনে করেন এবং সেখান থেকে সেটিকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ।

পরিস্থিতি বোঝাতে পুরোনো ভবন সংস্কারের উদাহরণ দেন তথ্যমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, খালি জায়গায় নতুন ভবন নির্মাণ তুলনামূলক সহজ; কিন্তু একটি পুরোনো ও ভাঙাচোরা ভবনকে সংস্কার করে আবার দাঁড় করানো অনেক কঠিন।

সাংবাদিকদের যুক্তিসংগত প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, যখন প্রয়োজন হবে, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

এর আগে বুধবার সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজসহ ক্র্যাবের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের অপরাধবিষয়ক সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন