বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইতালিগামী নৌকাডুবিতে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যু, মানবপাচার চক্রের ২ সদস্য সিআইডির হাতে

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার চেষ্টাকালে নৌকাডুবিতে আট বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মাদারীপুরের রাজৈর থানার টেকেরহাট বাজার এলাকা থেকে সিআইডির মানবপাচার ইউনিটের (টিএইচবি) একটি দল তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মাদারীপুরের রাজৈর থানার পূর্ব সরমঙ্গল গ্রামের মৃত আশরাফ আলী বাঘার ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম রফিক বাঘা (৫৪) এবং গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার কানোরিয়া গ্রামের মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. আমির হোসেন স্বপন (৩৮)।

সিআইডির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইতালি পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় তিউনিসিয়ার উপকূলসংলগ্ন ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে আট বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়। পরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মামলার ঘটনায় বেঁচে ফেরা একমাত্র ভুক্তভোগী আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করেন। ওই জবানবন্দি ও তদন্তের ভিত্তিতে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কার্যক্রম শুরু করে সিআইডি।

তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র ভুক্তভোগীদের বৈধভাবে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তাদের পরিবারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করে। পরে তাদের অবৈধভাবে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইতালি পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় তিউনিসিয়া উপকূলে ট্রলারটি ডুবে গেলে আট বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।

সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে নিহত ভুক্তভোগী রাসেল শেখ (১৯)-এর পরিবারের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ, মানবপাচার চক্রের অন্য সদস্যদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া এবং তাকে বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রেপ্তার দুজনকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদারীপুরের রাজৈর থানায় ১৪ মে ২০২৬ তারিখে দায়ের করা মামলা নম্বর ২৪-এর তথ্য পাওয়া গেছে। মামলায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৬, ৭, ৮, ৯ ও ১০ ধারা এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩০২ ধারায় অভিযোগ রয়েছে।

সিআইডি আরও জানায়, মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে জড়িত অন্যরা, পলাতক আসামি এবং চক্রটির দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্তের কাজও অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে একই মামলায় গুরুদাস বারই (৪৫) ও মো. মোতলেব মাতব্বর (৬৮) নামের আরও দুজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রতারণা এড়াতে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। সংস্থাটি জানিয়েছে, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর করা উচিত নয়। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করতে হবে।

এ ছাড়া ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নামে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ দাবি, পাসপোর্ট জিম্মি করে রাখা, ভিসা জালিয়াতি, মানবপাচার বা অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ হলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা সিআইডিকে অবহিত করার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন