শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একাত্তরের ভূমিকা সঠিক ছিল না—জামায়াত তা মেনে নিয়েছে: আইনমন্ত্রী

জামুকা আইন পাসে ‘না’ ভোট না দেওয়াকে স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন আসাদুজ্জামান; ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের ২০১৬ সালের অবস্থানের প্রসঙ্গও তুললেন

ঢাকা: সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছে যে ১৯৭১ সালে দলটির ভূমিকা ও রাজনৈতিক অবস্থান সঠিক ছিল না, এমন মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর গুলশানের লেকশোর গ্র্যান্ডে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: এর ইতিহাস ও রাজনীতি’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন সংশোধনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞায় পাকিস্তানি বাহিনীর পাশাপাশি তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দল ও সহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালিত হওয়ার বিষয়টি রাখা হয়েছে। বিলটি সংসদে পাসের সময় জামায়াতের কোনো সদস্য ‘না’ ভোট দেননি।

এই ঘটনাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে ‘না’ ভোট না দেওয়ার মধ্য দিয়ে জামায়াত পরোক্ষভাবে একাত্তরে তাদের ভূমিকার প্রশ্নটি মেনে নিয়েছে। এটি আইনমন্ত্রীর নিজস্ব রাজনৈতিক ও আইনি ব্যাখ্যা।

রাজ্জাকের ২০১৬ সালের প্রস্তাবের প্রসঙ্গ

আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের ২০১৬ সালের একটি খসড়া বক্তব্যের কথাও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে জাতির সামনে একটি সুস্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরতে চেয়েছিলেন রাজ্জাক। সে সময় জামায়াত ওই অবস্থান গ্রহণ করলে দলটিকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অনেক প্রশ্নের সমাধান হতে পারত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আসাদুজ্জামান বলেন, ব্যারিস্টার রাজ্জাক যে রাজনৈতিক দর্শন ও নীতির ভিত্তিতে ওই বক্তব্যের খসড়া করেছিলেন, বর্তমান সংসদীয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে তার একটি যোগসূত্র দেখা যাচ্ছে। তার মতে, এখানেই রাজ্জাকের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা প্রকাশ পেয়েছে।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন। তিনি দলটিকে ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে দলটির সঙ্গে তার রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হয়।

জামায়াতের আইনজীবীদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন

বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের উপস্থিতি না থাকার বিষয়েও সমালোচনা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, আব্দুর রাজ্জাকের রাজনৈতিক ও আইনি চিন্তাভাবনা নিয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে; তবে তার বক্তব্য ও সমালোচনা নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক দিলারা চৌধুরীও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ভেতরে এখনো বেশ কিছু বিষয়ে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)। অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ, গবেষক, আইনজীবী ও বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধনী) আইন-২০২৬-এর মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞায় পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের পাশাপাশি ‘তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম’সহ কয়েকটি সংগঠনের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধের কথা উল্লেখ রয়েছে। সংসদে আইনটি পাসের সময় জামায়াতের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও দলটির কোনো সদস্য ‘না’ বলেননি। তবে এই ভোটাভুটিকে ১৯৭১ সালের ভূমিকার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য করা হবে কি না সেটি আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে দেওয়া ব্যাখ্যা; জামায়াতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আলাদা কোনো নতুন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন