শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তিস্তা প্রকল্প দ্রুত শুরুর আশা চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের

বিদায়ী সাক্ষাতে পদ্মা ব্যারাজ ও অর্থনৈতিক করিডোর নিয়েও কথা • প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গুরুত্ব • বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো সহযোগিতা আরও বাড়াতে চায় ঢাকা-বেইজিং

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে প্রায় চার বছরের কূটনৈতিক দায়িত্ব শেষে বিদায় নিতে যাওয়া চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রকল্প দ্রুত শুরুর আশা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এবং প্রস্তাবিত চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সম্মানে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের দেওয়া বিদায়ী মধ্যাহ্নভোজে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ এসব বিষয় উঠে আসে।

পররাষ্ট্র সচিব ইয়াও ওয়েনের প্রায় চার বছরের দায়িত্বকালে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এগিয়ে নিতে তাঁর সক্রিয় সহযোগিতা ও ভূমিকার প্রশংসা করেন।

তিস্তা থেকে অর্থনৈতিক অঞ্চল—আলোচনায় বড় প্রকল্প

বিদায়ী অনুষ্ঠানে দুই দেশের চলমান ও প্রস্তাবিত কয়েকটি বড় সহযোগিতা প্রকল্প বিশেষ গুরুত্ব পায়।

পররাষ্ট্র সচিব তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রকল্প ও সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনা সহযোগিতা, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর এবং বাংলাদেশে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) অগ্রগতির ওপর গুরুত্ব দেন।

এসব উদ্যোগের গতি ধরে রাখার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

চীন ও বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়েও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আগস্টের শেষ দিকে দুই দেশ কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ চালুর প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছিল।

তিস্তা ও পদ্মা ব্যারাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আশা

বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন তাঁর বাংলাদেশে প্রায় চার বছরের দায়িত্বকালকে ঘটনাবহুল ও স্মরণীয় হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের দ্রুত কাজ শুরু হওয়ার প্রত্যাশা জানান। একই সঙ্গে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোর এগিয়ে নেওয়ার আশাও প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তাঁদের কার্যক্রম সহজ করতে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান রাষ্ট্রদূত।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে আলোচনা

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জুন ২০২৬-এর চীন সফরকেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ওই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে “China-Bangladesh Community with a Shared Future in the New Era” পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। সফরের ফলাফল এবং যৌথ ইশতেহার প্রণয়নে চীনের সহযোগিতারও প্রশংসা করেন তিনি।

ইয়াও ওয়েনও প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর, উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ এবং যৌথ ইশতেহারকে তাঁর দায়িত্বকালের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেন।

দুই পক্ষই প্রধানমন্ত্রীর সফরে যেসব বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, সেগুলোর কার্যকর ফলোআপ এবং উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়।

বহুপক্ষীয় ফোরামেও সহযোগিতার আশ্বাস

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আন্তর্জাতিক ও বহুপক্ষীয় ফোরামে বাংলাদেশের প্রতি চীনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরকে সহায়তায় চীনের ৮ লাখ মার্কিন ডলার দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ ও চীন ভবিষ্যতেও দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে আস্থা প্রকাশ করে।

প্রায় চার বছরের দায়িত্ব শেষে বিদায়

বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ইয়াও ওয়েন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতেও ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের নতুন ক্ষেত্র সম্প্রসারণে তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ে বৈঠক হয়েছে।

বিদায়ী মধ্যাহ্নভোজে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকীসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম ও রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পরস্পরের সঙ্গে উপহার বিনিময় করেন। পররাষ্ট্র সচিব বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য শুভকামনা জানান।

ইয়াও ওয়েনও বাংলাদেশে দায়িত্বকালে পাওয়া সহযোগিতা, বন্ধুত্ব ও আতিথেয়তার জন্য সরকার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন