কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন তুহিন, আনাস ও ফাহিম আহমেদ। তাদের মধ্যে তুহিনকে প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করার পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিমকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। এরপর তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিমকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শকও ফাহিম আহমেদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার তুহিনের বাড়ি সানন্দা এলাকায়। তার বাবার নাম নুরুল আলম। অপর দুইজনের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোটবাড়ির ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কসংলগ্ন দক্ষিণ সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় আব্দুল কাদের জিলানী ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন বাঁশ কাটতে গিয়ে জঙ্গলের মধ্যে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন এলাকার একটি সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। শুক্রবার বিকেলে মায়ের মোবাইল ফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। এরপর পরিবারের সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ তার সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালান। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর তার মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।
নিহতের এক প্রতিবেশীর দাবি, মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর থেকেই অপ্রতিম নিখোঁজ ছিল। ফোনকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। তবে এ বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হবে।
এদিকে অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তার গতিবিধি অনুসরণ করে। মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অপ্রতিম হত্যার কারণ, ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা এবং হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

