জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে হাতিকে ভয় দেখানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে পথচারী, যানবাহন চালক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। দিনের বেলায় লোকালয় ও বাজার এলাকায় হাতি নিয়ে গিয়ে এর শুঁড় উঁচিয়ে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি চক্র দিনের বিভিন্ন সময়ে সরিষাবাড়ীর বিভিন্ন সড়ক ও বাজার এলাকায় হাতি নিয়ে অবস্থান করে। এ সময় হাতির মাহুত হাতির শুঁড় বাড়িয়ে পথচারী ও যানবাহনের দিকে ইশারা করেন। এতে ভয় পেয়ে অনেকেই টাকা দিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের একটি জনবহুল সড়কে হাতি নিয়ে অবস্থান করছেন একজন মাহুত। এ সময় হাতির সামনে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন থামতে দেখা যায়। চালক ও পথচারীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চাহিদামতো টাকা না দিলে হাতির শুঁড় দিয়ে আঘাতের ভয় দেখানো কিংবা হাতিকে দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আজাদ মোল্লা বলেন, “আমরা ব্যবসা করতে এসে হাতির ভয়ে তটস্থ থাকি। হাতিটি দোকানের সামনে এসে শুঁড় তোলে। তখন ভয়ে টাকা দিয়ে দিই। টাকা পছন্দ না হলে ছুড়ে ফেলে দিয়ে হাতির ডাক ছাড়ে। জীবনের ভয়েই টাকা দিতে হয়।”
অটোরিকশাচালক মনিরুজ্জামান কিনু তাকুকদার বলেন, “যাত্রী নিয়ে যাতায়াতের সময় হাতি সামনে দাঁড়ায়। ছোট শিশু ও গাড়িতে থাকা যাত্রীরা ভয় পেয়ে চিৎকার করে। এমন পরিস্থিতিতে টাকা না দিলে হাতির আঘাতে জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। এই আতঙ্ককে কাজে লাগিয়ে প্রতিদিন টাকা নেওয়া হচ্ছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে এভাবে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। তারা দ্রুত এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সোলাইমান কবীর বলেন, হাতি দিয়ে দোকানে দোকানে টাকা আদায়ের বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে দেখার বিষয়। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানা বলেন, “আমরা এ ধরনের অভিযোগ সম্পর্কে অবহিত হয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত করে হাতির মাহুতকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

