শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশীয় মাছ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বাড়াতে সারাদেশে পোনা অবমুক্ত করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু

দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সরকার সারাদেশে মাছ অবমুক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার লেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কার্যক্রমটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

তিনি বলেন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশীয় প্রজাতির মাছ টিকিয়ে রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য। দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে মাছের উল্লেখযোগ্য কোনো ঘাটতি নেই। বিশেষ করে মিঠাপানির মাছের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। চাষির সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানোর প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

খামারিদের সহায়তায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ

প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মৎস্য খামারিরা কৃষক কার্ডের আওতায় বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণসহ বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

নিরাপদ মাছ উৎপাদনে নজরদারি

মাছের খাদ্য ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ মাছ উৎপাদনে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধে খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি অপচয় ও উৎপাদন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মানসম্মত মাছের খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। নিম্নমানের ফিড উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ রোধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। খামারিরা যাতে মানহীন খাদ্য ব্যবহার না করেন এবং ভোক্তারা নিরাপদ মাছ পান, সে লক্ষ্যে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

চিড়িয়াখানার লেকে ২৫০ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত

ঢাকা জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের বাস্তবায়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার লেকে মোট ২৫০ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ১০০ কেজি রুই, ৭৫ কেজি কাতলা এবং ৭৫ কেজি কালিবাউস রয়েছে।

অবমুক্ত করা পোনামাছগুলোর আকার ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার। মোট প্রায় ২ হাজার ৫৭৫টি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়। এর মধ্যে রুই প্রায় ১ হাজার ১০০টি, কাতলা প্রায় ৬০০টি এবং কালিবাউস প্রায় ৮৭৫টি।

অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. শাহিনুর আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন